Hi

১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে আমিনুল হক

জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে তৈরি করছেন আলাদা পরিচিতি

রাজনীতির মাঠে পদ-পদবি অনেকেরই থাকে, তবে সেই পদকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে কতজন কাজে লাগাতে পারেন সেটিই হয়ে ওঠে একজন নেতার আলাদা পরিচয়ের মাপকাঠি। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এমন জনসম্পৃক্ততার চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নগরজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে আমিনুল হককে সক্রিয় ও মাঠমুখী নেতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আমিনুল হক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিএনপির ঘোষিত দুই সদস্যের আংশিক কমিটিতে তাকে সদস্যসচিব করা হয়। পরবর্তীতে তিনি মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

নেতাকর্মীদের পাশে থাকার রাজনীতি:

আমিনুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়া। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়মিত অংশ হিসেবে দেখা যায়। কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ঘটনা তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার একটি দৃষ্টান্ত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির পর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরবর্তীতেও বিভিন্ন থানা ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের সভা ও কর্মশালাতেও তার নেতৃত্বে মহানগর উত্তরকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড : 

আমিনুল হকের কর্মকাণ্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও পল্লবী এলাকায় শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতেও তার অবদান ছিলো। এ ছাড়া মিরপুরে অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের কর্মসূচিতেও তিনি এগিয়ে ছিলেন। সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি দেখা যায় ২০২৫/২৬ সালে। পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবারের পাশে থেকে তিনি মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলীয় পরিচয়ের বাইরে মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্রবণতা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নগর সমস্যার সমাধানেও গুরুত্ব : 

রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার বাস্তব সমস্যা নিয়ে আমিনুল হকের বক্তব্যেও জনজীবনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে পানি, ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন, গ্যাস, খেলার মাঠ, মসজিদ ও ঈদগাহসহ স্থানীয় অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।পল্লবী রুপনগর এলাকায় নয় রাজধানীর উত্তরায় খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতেও তার তত্ত্বাবধানে হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় এ ধরনের কর্মসূচিকে জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই দেখা যায়।

দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান :

আমিনুল হকের রাজনৈতিক বক্তব্যের আরেকটি দিক হলো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার একটি উদ্যোগে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তার প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও জায়গা পেয়েছে।

খেলাধুলাকে সামাজিক ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে দেখেন :

সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে খেলাধুলার সঙ্গে আমিনুল হকের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনীতির বাইরেও তিনি খেলাধুলাকে সামাজিক সম্প্রীতি ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পল্লবীতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে তিনি খেলাধুলাকে দলমত নির্বিশেষে মানুষকে একত্র করার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। এ কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে খেলাধুলা ও তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা পেয়েছে।

জনগণের সমস্যা নিজের সমস্যা : 

রাজনীতিকে তিনি মানুষের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে চান। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করেই সমাধানের চেষ্টা করবেন।  তিনি স্থানীয় মসজিদ, ঈদগাহ, খেলার মাঠ, পানি, ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন ও গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন।

পদ নয়, মানুষের সঙ্গে থাকার রাজনীতিই বড় :

আমিনুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে ঘিরে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে শীতবস্ত্র বিতরণ, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা, খাল পরিষ্কার, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খেলাধুলার আয়োজন এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ গ্রহন করেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের অনেক নেতাকর্মীর কাছে তিনি মাঠে থাকা নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এমন একটি রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তার কর্মকাণ্ডে তৈরি হয়েছে যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার কারণে দলীয় রাজনীতির বাইরেও তার জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বলেন, আমিনুল হকের রাজনৈতিক পথচলায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান, তা হলো নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা। রাজনীতিকে কেবল সভা সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টাই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে তাকে আলাদা করে তুলছে। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একইভাবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করবেন।

জনপ্রিয়

বিরোধী দলগুলো কিসের বিরোধিতা করে, মানুষ তা পরিষ্কার বোঝে না: মাহমুদুর রহমান মান্না

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে আমিনুল হক

জনসম্পৃক্ত রাজনীতিতে তৈরি করছেন আলাদা পরিচিতি

আপডেট : ১১:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজনীতির মাঠে পদ-পদবি অনেকেরই থাকে, তবে সেই পদকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে কতজন কাজে লাগাতে পারেন সেটিই হয়ে ওঠে একজন নেতার আলাদা পরিচয়ের মাপকাঠি। বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এমন জনসম্পৃক্ততার চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নগরজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে আমিনুল হককে সক্রিয় ও মাঠমুখী নেতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আমিনুল হক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিএনপির ঘোষিত দুই সদস্যের আংশিক কমিটিতে তাকে সদস্যসচিব করা হয়। পরবর্তীতে তিনি মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

নেতাকর্মীদের পাশে থাকার রাজনীতি:

আমিনুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়া। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়মিত অংশ হিসেবে দেখা যায়। কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ঘটনা তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার একটি দৃষ্টান্ত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির পর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরবর্তীতেও বিভিন্ন থানা ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের সভা ও কর্মশালাতেও তার নেতৃত্বে মহানগর উত্তরকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ড : 

আমিনুল হকের কর্মকাণ্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও পল্লবী এলাকায় শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতেও তার অবদান ছিলো। এ ছাড়া মিরপুরে অসহায় মানুষের মধ্যে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের কর্মসূচিতেও তিনি এগিয়ে ছিলেন। সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি দেখা যায় ২০২৫/২৬ সালে। পল্লবীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবারের পাশে থেকে তিনি মানবিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দলীয় পরিচয়ের বাইরে মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্রবণতা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নগর সমস্যার সমাধানেও গুরুত্ব : 

রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার বাস্তব সমস্যা নিয়ে আমিনুল হকের বক্তব্যেও জনজীবনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে পানি, ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন, গ্যাস, খেলার মাঠ, মসজিদ ও ঈদগাহসহ স্থানীয় অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।পল্লবী রুপনগর এলাকায় নয় রাজধানীর উত্তরায় খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতেও তার তত্ত্বাবধানে হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় এ ধরনের কর্মসূচিকে জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই দেখা যায়।

দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান :

আমিনুল হকের রাজনৈতিক বক্তব্যের আরেকটি দিক হলো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার একটি উদ্যোগে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তার প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ও জায়গা পেয়েছে।

খেলাধুলাকে সামাজিক ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে দেখেন :

সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে খেলাধুলার সঙ্গে আমিনুল হকের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনীতির বাইরেও তিনি খেলাধুলাকে সামাজিক সম্প্রীতি ও তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পল্লবীতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে তিনি খেলাধুলাকে দলমত নির্বিশেষে মানুষকে একত্র করার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। এ কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে খেলাধুলা ও তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা পেয়েছে।

জনগণের সমস্যা নিজের সমস্যা : 

রাজনীতিকে তিনি মানুষের সমস্যা সমাধানের সঙ্গে যুক্ত করতে চান। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করেই সমাধানের চেষ্টা করবেন।  তিনি স্থানীয় মসজিদ, ঈদগাহ, খেলার মাঠ, পানি, ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন ও গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন।

পদ নয়, মানুষের সঙ্গে থাকার রাজনীতিই বড় :

আমিনুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে ঘিরে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে শীতবস্ত্র বিতরণ, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা, খাল পরিষ্কার, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খেলাধুলার আয়োজন এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশ গ্রহন করেন। এ কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের অনেক নেতাকর্মীর কাছে তিনি মাঠে থাকা নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এমন একটি রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তার কর্মকাণ্ডে তৈরি হয়েছে যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার কারণে দলীয় রাজনীতির বাইরেও তার জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বলেন, আমিনুল হকের রাজনৈতিক পথচলায় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান, তা হলো নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা। রাজনীতিকে কেবল সভা সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রচেষ্টাই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির রাজনীতিতে তাকে আলাদা করে তুলছে। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি একইভাবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করবেন।