Hi

০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজী নজরুলের সদস্যপদ নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্পিকার

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় পদ নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এমপির বিরুদ্ধে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর সদস্যপদ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল দল থেকে বহিষ্কারের কারণেই একজন সংসদ সদস্যের পদ খারিজ হয়ে যায় না।

গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুতে বিষয়টি আরও জটিল মোড় নেয়। গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলে গাজী নজরুলসহ তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। বর্তমানে নজরুল পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আছেন এবং মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যাখ্যা করেন যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল নিজ থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলেই আসন শূন্য হয়, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। পুলিশি তদন্তের ফলাফলের পাশাপাশি আদালত থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে সংসদ সদস্য পদ অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।

এ ধরনের বিতর্কিত পরিস্থিতিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকে। স্পিকার আরও জানান, কোনো সদস্যের অযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, দল থেকে বহিষ্কারের পর নজরুলের নাম সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াত অনুরোধ জানায়। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম যুক্ত হলে জামায়াতের আপত্তিতে তা পুনর্গঠন করা হয়। সে সময় সংসদে এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সংবিধান অনুযায়ী বহিষ্কৃত সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার অবকাশ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু নতুন করে গাজী নজরুল ইসলামকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে।

জনপ্রিয়

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ স্থগিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গাজী নজরুলের সদস্যপদ নিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় স্পিকার

আপডেট : ০৮:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় পদ নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত এমপির বিরুদ্ধে পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর সদস্যপদ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল দল থেকে বহিষ্কারের কারণেই একজন সংসদ সদস্যের পদ খারিজ হয়ে যায় না।

গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুতে বিষয়টি আরও জটিল মোড় নেয়। গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলে গাজী নজরুলসহ তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। বর্তমানে নজরুল পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আছেন এবং মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যাখ্যা করেন যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল নিজ থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলেই আসন শূন্য হয়, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। পুলিশি তদন্তের ফলাফলের পাশাপাশি আদালত থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড প্রাপ্ত হলে সংসদ সদস্য পদ অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।

এ ধরনের বিতর্কিত পরিস্থিতিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকে। স্পিকার আরও জানান, কোনো সদস্যের অযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, দল থেকে বহিষ্কারের পর নজরুলের নাম সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াত অনুরোধ জানায়। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম যুক্ত হলে জামায়াতের আপত্তিতে তা পুনর্গঠন করা হয়। সে সময় সংসদে এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সংবিধান অনুযায়ী বহিষ্কৃত সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার অবকাশ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যু নতুন করে গাজী নজরুল ইসলামকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং এই পদে থাকার বেশ কিছু যোগ্যতার কথা বলা আছে।