Hi

১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্ন করা কি কেবল কৌতূহল? জীবন গঠনে সাহাবিদের জিজ্ঞাসার অজানিত দর্শন

ইসলামি জীবনধারায় জ্ঞান অর্জনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো প্রশ্ন করা। সাহাবিদের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁদের সাফল্যের অন্যতম মূলমন্ত্র ছিল নবীজি (সা.)-এর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা। এটি কেবল কোনো সাধারণ কৌতূহল ছিল না, বরং তা ছিল সত্য অনুসন্ধানের একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। ইসলামে প্রশ্ন করাকে অজ্ঞতার মহৌষধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা একজন মানুষের আত্মশুদ্ধি ও সঠিক জীবনপথ নির্ধারণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

সাহাবি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর বর্ণিত একটি ঐতিহাসিক হাদিস অজ্ঞতার কুফল স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। জনৈক সাহাবি আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ভুল পরামর্শের কারণে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা শোনার পর মহানবী (সা.) অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘না জানার একমাত্র মহৌষধ হলো প্রশ্ন করা।’ এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, জীবনের নিরাপত্তা ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ধর্মীয় জ্ঞান আহরণে জড়তা কাটিয়ে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি থাকা কতটা জরুরি।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।’ সাহাবি আলী (রা.) এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁদের অগাধ জ্ঞানের উৎস হিসেবে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাসকেই দায়ী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ভাষায়, ‘বারবার প্রশ্নকারী মুখ আর সত্য অনুধাবনক্ষম তীক্ষ্ণ হৃদয়ই প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথ।’

সাহাবিরা কেবল পার্থিব জীবন নয়, বরং পরকালীন মুক্তি ও সামাজিক সংহতির জন্য নবীজির কাছে জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্ন করতেন। তাঁদের প্রশ্নগুলোর ধরন ছিল অত্যন্ত বাস্তবিক এবং মার্জিত। আনসারি নারীরাও ধর্মীয় বিষয় বুঝতে কোনো সংকোচবোধ করতেন না, যা আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে ইসলামে অপ্রয়োজনীয়, কাল্পনিক বা বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে করা প্রশ্নকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলাম কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার নাম নয়, বরং প্রাত্যহিক অনুশীলনের রূপরেখা।

বর্তমান যুগের তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের সময়ে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে সাহাবিদের মতো সত্য অনুসন্ধানী মনমানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। নবীজি (সা.) সব সময় অল্প কথায় গভীর অর্থবহ ‘জাওয়ামিউল কালেম’ পদ্ধতির মাধ্যমে সাহাবিদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন, যা আজও আমাদের জীবন সংশোধনের জন্য মাইলফলক হয়ে আছে। মানুষের ভেতরের জড়তা দূর করে সঠিক জ্ঞান অর্জনে প্রশ্ন করার এই সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করা সময়ের দাবি।

জনপ্রিয়

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

প্রশ্ন করা কি কেবল কৌতূহল? জীবন গঠনে সাহাবিদের জিজ্ঞাসার অজানিত দর্শন

আপডেট : ০৯:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামি জীবনধারায় জ্ঞান অর্জনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো প্রশ্ন করা। সাহাবিদের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁদের সাফল্যের অন্যতম মূলমন্ত্র ছিল নবীজি (সা.)-এর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা। এটি কেবল কোনো সাধারণ কৌতূহল ছিল না, বরং তা ছিল সত্য অনুসন্ধানের একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। ইসলামে প্রশ্ন করাকে অজ্ঞতার মহৌষধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা একজন মানুষের আত্মশুদ্ধি ও সঠিক জীবনপথ নির্ধারণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

সাহাবি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)-এর বর্ণিত একটি ঐতিহাসিক হাদিস অজ্ঞতার কুফল স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। জনৈক সাহাবি আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ভুল পরামর্শের কারণে গোসল করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা শোনার পর মহানবী (সা.) অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘না জানার একমাত্র মহৌষধ হলো প্রশ্ন করা।’ এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, জীবনের নিরাপত্তা ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য ধর্মীয় জ্ঞান আহরণে জড়তা কাটিয়ে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি থাকা কতটা জরুরি।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা নাহলের ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।’ সাহাবি আলী (রা.) এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁদের অগাধ জ্ঞানের উৎস হিসেবে ক্রমাগত প্রশ্ন করার অভ্যাসকেই দায়ী করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ভাষায়, ‘বারবার প্রশ্নকারী মুখ আর সত্য অনুধাবনক্ষম তীক্ষ্ণ হৃদয়ই প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথ।’

সাহাবিরা কেবল পার্থিব জীবন নয়, বরং পরকালীন মুক্তি ও সামাজিক সংহতির জন্য নবীজির কাছে জীবনঘনিষ্ঠ প্রশ্ন করতেন। তাঁদের প্রশ্নগুলোর ধরন ছিল অত্যন্ত বাস্তবিক এবং মার্জিত। আনসারি নারীরাও ধর্মীয় বিষয় বুঝতে কোনো সংকোচবোধ করতেন না, যা আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে ইসলামে অপ্রয়োজনীয়, কাল্পনিক বা বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে করা প্রশ্নকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলাম কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার নাম নয়, বরং প্রাত্যহিক অনুশীলনের রূপরেখা।

বর্তমান যুগের তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের সময়ে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে সাহাবিদের মতো সত্য অনুসন্ধানী মনমানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। নবীজি (সা.) সব সময় অল্প কথায় গভীর অর্থবহ ‘জাওয়ামিউল কালেম’ পদ্ধতির মাধ্যমে সাহাবিদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন, যা আজও আমাদের জীবন সংশোধনের জন্য মাইলফলক হয়ে আছে। মানুষের ভেতরের জড়তা দূর করে সঠিক জ্ঞান অর্জনে প্রশ্ন করার এই সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করা সময়ের দাবি।