Hi

০৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল: বড় অর্থনৈতিক সংকটের সতর্কবার্তা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের বোঝা প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলারের বিশাল মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল অংকের ঋণের মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এবং ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়বদ্ধতা।

এক দশকেরও কম সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশটির সরকারি ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো এই ঋণ বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক। গত ২০ বছরের কম সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ঋণ বৃদ্ধির এই পরিস্থিতির পেছনে কোভিড-১৯ মহামারির সময় নেওয়া জরুরি কর্মসূচিগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও জো বাইডেনের আমলে মহামারি মোকাবিলায় নেওয়া ব্যয়ের কারণে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের জন্য দায়ী দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যকার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করে বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ কেবল সরকারি নথিতে সীমাবদ্ধ নেই; এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ছে। তিনি জানান, ঋণের পরিমাণ বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই যায় সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার), নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা এবং সাবেক সেনাসদস্যদের সহায়তার মতো বাধ্যতামূলক কর্মসূচিতে। এর বাইরে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সুদ পরিশোধের ব্যয় মেডিকেয়ারের চেয়েও বেশি হয়েছে, যা এখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পর বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত।

রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতিও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ছিল ৪৩২ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের ঘাটতি পুরো ২০২৫ অর্থবছরের মোট ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে। শুল্ক থেকে আয় হ্রাস এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অবসর ও স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া প্রজন্মটি অবসর নেওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু বেতন ও আয়কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এই ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে, আইনপ্রণেতারা যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় কম হওয়া এবং বাধ্যতামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে টের পাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকগিনিস আরও বলেন, ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অর্ধেকের বেশি বেড়েছিল তাঁর মেয়াদের শেষ ৯ মাসে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ের কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে; অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর সময়ে এখন পর্যন্ত সরকারি ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

জনপ্রিয়

বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল: বড় অর্থনৈতিক সংকটের সতর্কবার্তা

আপডেট : ০৩:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের বোঝা প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলারের বিশাল মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল অংকের ঋণের মধ্যে ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজ হিসেবে এবং ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দায়বদ্ধতা।

এক দশকেরও কম সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশটির সরকারি ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো এই ঋণ বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক। গত ২০ বছরের কম সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ঋণ বৃদ্ধির এই পরিস্থিতির পেছনে কোভিড-১৯ মহামারির সময় নেওয়া জরুরি কর্মসূচিগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও জো বাইডেনের আমলে মহামারি মোকাবিলায় নেওয়া ব্যয়ের কারণে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের জন্য দায়ী দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যকার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করে বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ কেবল সরকারি নথিতে সীমাবদ্ধ নেই; এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ছে। তিনি জানান, ঋণের পরিমাণ বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই যায় সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার), নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা এবং সাবেক সেনাসদস্যদের সহায়তার মতো বাধ্যতামূলক কর্মসূচিতে। এর বাইরে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতিবছর ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেটকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সুদ পরিশোধের ব্যয় মেডিকেয়ারের চেয়েও বেশি হয়েছে, যা এখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পর বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত।

রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতিও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ছিল ৪৩২ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের ঘাটতি পুরো ২০২৫ অর্থবছরের মোট ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে। শুল্ক থেকে আয় হ্রাস এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অবসর ও স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া প্রজন্মটি অবসর নেওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু বেতন ও আয়কর থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব এই ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে, আইনপ্রণেতারা যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন, তবে দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় কম হওয়া এবং বাধ্যতামূলক কর্মসূচিতে ব্যয় হু হু করে বাড়তে থাকায় এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে টের পাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ম্যাকগিনিস আরও বলেন, ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অর্ধেকের বেশি বেড়েছিল তাঁর মেয়াদের শেষ ৯ মাসে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ের কারণে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে; অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর সময়ে এখন পর্যন্ত সরকারি ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।