Hi

১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তির ৩ দিনেই আড়াই কোটির বেশি ভিউ! ওটিটিতে রেকর্ড গড়ে ঝড় তুলল নতুন থ্রিলার ‘দ্য লাস্ট হাউস’

ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নতুন থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য লাস্ট হাউস’। মুক্তির মাত্র প্রথম তিন দিনেই চলচ্চিত্রটির ভিউ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ। গত ৩ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহ জুড়ে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকার শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছে গ্রেটা লি ও ওয়াগনার মৌরা অভিনীত এই সিনেমাটি। শুধু ইংরেজি ভাষার সিনেমাগুলোর মধ্যেই নয়, ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহে নেটফ্লিক্সের সামগ্রিক কনটেন্টের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ফলে মুক্তির পরপরই চলচ্চিত্রটি সিনেমা প্রেমীদের মাঝে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে একটি রহস্যময় বাড়িকে কেন্দ্র করে। বাইরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের মধ্যে বাড়ির দরজা-জানালা সবকিছু হুট করেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কাজ করছে না কোনো ফোন কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। এই অবস্থায় বাড়ির ভেতরে থাকা চারজন মানুষ বুঝতে পারে, তারা কেবল নিজেদের ঘরেই আটকা পড়েনি, বরং বাইরের পুরো পৃথিবী থেকেই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোনো অলৌকিক শক্তি বা ভূতের উপদ্বব নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই অবরুদ্ধ বাড়িটি থেকে বের হতে না পারার চরম অসহায়ত্বই এই সিনেমার মূল ভীতি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। দর্শকদের একটি বড় অংশ এর শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ এবং রহস্য সৃষ্টি করার চমৎকার কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশের মতে, একটি অসাধারণ আইডিয়া বা ধারণাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে সিনেমাটি তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ এই চলচ্চিত্রটিকে সায়েন্স ফিকশন, হরর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের একটি মিশ্রণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটিতে কেবল ভয়ের উপাদান দেখানোর চেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাইরের অজানা বিপদের চেয়েও এখানে তীব্র হয়ে উঠেছে ভেতরের চারজন মানুষের পারস্পরিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। দীর্ঘ সময় বন্দী থাকার ফলে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা ও ভয়ের মুখে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ফাটল এবং সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বাড়িটি কেবল একটি নিরাপদ আশ্রয় না হয়ে চরিত্রগুলোর জন্য হয়ে ওঠে একটি মানসিক কারাগার।

সিনেমাটির অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন অভিনেত্রী গ্রেটা লি। এর আগে ‘পাস্ট লাইভস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ানো এই অভিনেত্রী এখানে ‘রাইলি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একজন মায়ের চরিত্রে তাঁর এই অভিনয় দর্শক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হচ্ছে, যেখানে তাঁকে একই সাথে সন্তানদের রক্ষা করার পাশাপাশি নিজের মানসিক আতঙ্ক আড়াল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘নার্কোস’ সিরিজে পাবলো এসকোবারের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ব্রাজিলিয়ান তারকা ওয়াগনার মৌরা এখানে অভিনয় করেছেন ‘জেসন’ চরিত্রে। জেসন এমন একজন বাবা, যিনি প্রথম দিকে পুরো পরিস্থিতির যৌক্তিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাস্তবতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েন।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন হলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা লুই লেতেরিয়ের। ইতিপূর্বে ‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’, ‘নাউ ইউ সি মি’ এবং ‘ফাস্ট এক্স’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি ঘরানার ছবি পরিচালনা করে তিনি হাত পাকিয়েছেন। তবে এই সিনেমায় তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে হেঁটেছেন। কোনো বড় বাজেটের হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন দৃশ্যের পরিবর্তে তিনি পুরো ছবির গল্পকে একটি মাত্র বাড়ির ভেতরের সীমাবদ্ধ পরিসরে বন্দি রেখে রহস্যের জাল বুনেছেন।

বিশ্বব্যাপী সাধারণ দর্শকরা ছবিটি লুফে নিলেও সমালোচকরা এর দুর্বল চিত্রনাট্যের সমালোচনা করেছেন। জনপ্রিয় সিনেমাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ডিসাইডার’ ছবিটিকে একটি গড়পড়তা মানের সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, শক্তিশালী কাস্টিং থাকা সত্ত্বেও চরিত্রগুলোর যথাযথ বিকাশ ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক। বিশেষ করে কাহিনীর শেষ ভাগে রহস্যের উন্মোচন এবং ঘটনার ব্যাখ্যাগুলো দর্শকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তবুও, মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার দর্শকদের কাছে ‘দ্য লাস্ট হাউস’ এই সময়ের অন্যতম একটি উপভোগ্য সিনেমা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।

জনপ্রিয়

বিমানে কোন সিট বেছে নিচ্ছেন? আপনার ব্যক্তিত্বের গোপন রহস্য ফাঁস করছে তা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মুক্তির ৩ দিনেই আড়াই কোটির বেশি ভিউ! ওটিটিতে রেকর্ড গড়ে ঝড় তুলল নতুন থ্রিলার ‘দ্য লাস্ট হাউস’

আপডেট : ০৭:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ওটিটি জায়ান্ট নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নতুন থ্রিলার সিনেমা ‘দ্য লাস্ট হাউস’। মুক্তির মাত্র প্রথম তিন দিনেই চলচ্চিত্রটির ভিউ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ। গত ৩ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহ জুড়ে নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক দর্শক তালিকার শীর্ষ স্থানটি দখল করে নিয়েছে গ্রেটা লি ও ওয়াগনার মৌরা অভিনীত এই সিনেমাটি। শুধু ইংরেজি ভাষার সিনেমাগুলোর মধ্যেই নয়, ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহে নেটফ্লিক্সের সামগ্রিক কনটেন্টের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশিবার দেখা ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ফলে মুক্তির পরপরই চলচ্চিত্রটি সিনেমা প্রেমীদের মাঝে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে একটি রহস্যময় বাড়িকে কেন্দ্র করে। বাইরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের মধ্যে বাড়ির দরজা-জানালা সবকিছু হুট করেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কাজ করছে না কোনো ফোন কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ। এই অবস্থায় বাড়ির ভেতরে থাকা চারজন মানুষ বুঝতে পারে, তারা কেবল নিজেদের ঘরেই আটকা পড়েনি, বরং বাইরের পুরো পৃথিবী থেকেই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোনো অলৌকিক শক্তি বা ভূতের উপদ্বব নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই অবরুদ্ধ বাড়িটি থেকে বের হতে না পারার চরম অসহায়ত্বই এই সিনেমার মূল ভীতি হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। দর্শকদের একটি বড় অংশ এর শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ এবং রহস্য সৃষ্টি করার চমৎকার কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশের মতে, একটি অসাধারণ আইডিয়া বা ধারণাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্যের কারণে সিনেমাটি তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ এই চলচ্চিত্রটিকে সায়েন্স ফিকশন, হরর ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের একটি মিশ্রণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটিতে কেবল ভয়ের উপাদান দেখানোর চেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বাইরের অজানা বিপদের চেয়েও এখানে তীব্র হয়ে উঠেছে ভেতরের চারজন মানুষের পারস্পরিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। দীর্ঘ সময় বন্দী থাকার ফলে অনিশ্চয়তা, ক্ষুধা ও ভয়ের মুখে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ফাটল এবং সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে বাড়িটি কেবল একটি নিরাপদ আশ্রয় না হয়ে চরিত্রগুলোর জন্য হয়ে ওঠে একটি মানসিক কারাগার।

সিনেমাটির অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন অভিনেত্রী গ্রেটা লি। এর আগে ‘পাস্ট লাইভস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ানো এই অভিনেত্রী এখানে ‘রাইলি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একজন মায়ের চরিত্রে তাঁর এই অভিনয় দর্শক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হচ্ছে, যেখানে তাঁকে একই সাথে সন্তানদের রক্ষা করার পাশাপাশি নিজের মানসিক আতঙ্ক আড়াল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘নার্কোস’ সিরিজে পাবলো এসকোবারের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া ব্রাজিলিয়ান তারকা ওয়াগনার মৌরা এখানে অভিনয় করেছেন ‘জেসন’ চরিত্রে। জেসন এমন একজন বাবা, যিনি প্রথম দিকে পুরো পরিস্থিতির যৌক্তিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাস্তবতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েন।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন হলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা লুই লেতেরিয়ের। ইতিপূর্বে ‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’, ‘নাউ ইউ সি মি’ এবং ‘ফাস্ট এক্স’-এর মতো ব্লকবাস্টার অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসি ঘরানার ছবি পরিচালনা করে তিনি হাত পাকিয়েছেন। তবে এই সিনেমায় তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে হেঁটেছেন। কোনো বড় বাজেটের হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশন দৃশ্যের পরিবর্তে তিনি পুরো ছবির গল্পকে একটি মাত্র বাড়ির ভেতরের সীমাবদ্ধ পরিসরে বন্দি রেখে রহস্যের জাল বুনেছেন।

বিশ্বব্যাপী সাধারণ দর্শকরা ছবিটি লুফে নিলেও সমালোচকরা এর দুর্বল চিত্রনাট্যের সমালোচনা করেছেন। জনপ্রিয় সিনেমাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ডিসাইডার’ ছবিটিকে একটি গড়পড়তা মানের সায়েন্স ফিকশন থ্রিলার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, শক্তিশালী কাস্টিং থাকা সত্ত্বেও চরিত্রগুলোর যথাযথ বিকাশ ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক। বিশেষ করে কাহিনীর শেষ ভাগে রহস্যের উন্মোচন এবং ঘটনার ব্যাখ্যাগুলো দর্শকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তবুও, মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার দর্শকদের কাছে ‘দ্য লাস্ট হাউস’ এই সময়ের অন্যতম একটি উপভোগ্য সিনেমা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।