রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্ব পালন করছে, একে চিরস্থায়ী করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার মতো ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে গুমের সংস্কৃতি তারা চালু করেননি এবং ভবিষ্যতে কাউকে এমনটি করতে দেওয়া হবে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পাশে জুলাই যাদুঘর আছে। যারা শাসন ক্ষমতায় আসবেন, তাদের বলব সেখান থেকে ঘুরে আসতে। ফ্যাসিবাদী আচরণের পরিণতি কী হয়, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সন্তানেরা যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, সেই ধারা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। পাঁচ বছরে হয়তো জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে না, তবে এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে সরকারগুলো জনচাহিদা অনুযায়ী আইন সংশোধন ও উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিরোধী দলের প্রতি সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বিল উত্থাপনের সময় বিরোধিতা বা সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আজ গুমের শিকার সালাহউদ্দিন হিসেবে, গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কথা বলছি।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তে ১৪০০ জনের মতো শহীদের তালিকা পাওয়া গেলেও প্রকৃত সংখ্যা ২০০০-এর বেশি। স্বজনরা এখনো কবরের সন্ধান করছেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে লাশ গুম, পুড়িয়ে ফেলা এবং হাসপাতালের রেকর্ড মুছে ফেলার মতো জঘন্য কাজ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের মধ্যে এখনো কোনো অনুশোচনা নেই, বরং তারা জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করছে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার চায় ভুক্তভোগীরা সরাসরি আইনের আশ্রয় পাক। আগের গুম কমিশনের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান আইসিটি আইনের আওতায় ‘ওয়াইড স্প্রেড সিস্টেমেটিক এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এর জন্য আইসিটি কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে। তিনি নিজেও একটি মামলার বাদী হয়েছেন এবং তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য, যেই ধারার জন্য আমাদের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে এই জাতি বসে আছে, আসমান সমপ্রত্যাশা নিয়ে আমাদের জাতি বসে আছে, হয়তো আমরা পুরো প্রত্যাশা এই পাঁচ বছর পূরণ করতে পারবো না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা যদি আরও হিসাব দেই—জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বাংলাদেশে তদন্ত করেছে, তারা ১৪০০’র মতো শহীদের তালিকা পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শাসকদেরকে সবসময় সেটা ভিজিট করে আসতে বলব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন আইন নিয়ে আসবে, সমাজের চাহিদা পূরণ করবে।’।
রিপোর্টার নাম: 






















