Hi

১২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগকে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রোববার এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা সক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, সদস্য কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা খাতেও দেশগুলো একে অপরের সাথে সহযোগিতা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, যা তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এখন ত্রিপক্ষীয় রূপ পেল।

তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই জোটটি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি। বরং এটি একটি নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ, যেখানে ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। দ্য ইকোনমিস্ট টাইমস, এপি নিউজ, রয়টার্স ও ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয়

কাতারের আবু সামরা সীমান্তে মাদক পাচারের বড় চালান আটক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আপডেট : ১০:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগকে ‘বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রোববার এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা সক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলবে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশের শীর্ষ নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, সদস্য কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা খাতেও দেশগুলো একে অপরের সাথে সহযোগিতা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক সক্ষমতা একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল, যা তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এখন ত্রিপক্ষীয় রূপ পেল।

তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই জোটটি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি। বরং এটি একটি নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ, যেখানে ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। দ্য ইকোনমিস্ট টাইমস, এপি নিউজ, রয়টার্স ও ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।