রংপুর অঞ্চলের কৃষিখাতে এক নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। গোবরা গ্রামের উদ্যোগী চাষি হেমন্ত চন্দ্র বর্মণের হাত ধরে পুরো জনপদটি এখন দেশজুড়ে ‘নার্সারি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। একসময়ের সাধারণ এই গ্রামটির অর্থনীতি এখন মূলত বাণিজ্যিক চারা উৎপাদন ও বিপণনের ওপর নির্ভর করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। হেমন্ত চন্দ্র বর্মণের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সফলতার গল্প আজ শুধু একটি নির্দিষ্ট জনপদেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো দেশের তরুণ ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হেমন্ত চন্দ্র বর্মণ তার দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে ৩৫ একর জমির ওপর একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন। এই বিশাল খামারে তিনি ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা উৎপাদনের কাজ শুরু করেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে তাঁর এই খামার থেকে বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে আড়াই লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তাঁর এই অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্য গ্রামের অন্য বেকার যুবক ও কৃষকদের মধ্যেও চারা উৎপাদনের আগ্রহ তৈরি করে। হেমন্তের দেখানো পথ অনুসরণ করে আজ গোবরা গ্রামের শত শত পরিবার নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গোবরা গ্রামের আবহাওয়া এবং মাটি নার্সারি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগে যেখানে এই অঞ্চলের মানুষ ঐতিহ্যবাহী ধান ও পাট চাষের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতো, সেখানে নার্সারি ব্যবসার কল্যাণে তাদের ভাগ্য আজ সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় ও ফাঁকা জমিতে এখন গড়ে উঠেছে ছোট-বড় নার্সারি। এখান থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের গাছের চারা স্থানীয় চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গোবরা গ্রামের এই সাফল্য বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। প্রথাগত কৃষিকাজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভিত্তিক এমন উদ্যোগ বেকারত্ব হ্রাসে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি এই ধরনের উদ্যোগী কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করে, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। হেমন্ত চন্দ্র বর্মণের এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
রিপোর্টার নাম: 




















