Hi

০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একবুক নিশ্বাসের আকুতি ও প্রকৃতির নির্মম বাস্তবতায় চরকিতে মুক্তি পেল ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’

করোনা মহামারির সময় একজন পিতার জীবনযুদ্ধের করুণ অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিবেশগত সংকটের পটভূমিতে নির্মিত সীমিত দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ এবং প্রযোজনা করেছেন মাহফুজ নাজিম। হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে সামান্য অক্সিজেনের জন্য একজন মানুষের সংগ্রাম দেখার ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই এই সিনেমার জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রযোজক। চলচ্চিত্রটির নামকরণ কিছুটা জটিল মনে হতে পারে, তবে এর মূল ভাবনা একেবারেই সহজ—একটি নিশ্বাসের জন্য হাহাকার। নির্মাতা ও প্রযোজকের মতে, এটি কেবল করোনা বা হাসপাতালের চার দেয়ালের গল্প নয়; বরং যে হারে প্রকৃতির ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাতে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়াটাই অদূর ভবিষ্যতে মানুষের প্রধান লড়াইয়ে পরিণত হবে। ঢাকার মতো জনবহুল ও দূষিত শহরের বাতাসের মান যখন প্রতিদিনের উদ্বেগের বিষয়, তখন এই চলচ্চিত্রের পটভূমিকে আর কল্পবিজ্ঞান বলা চলে না, বরং এটি বর্তমানের এক অনিবার্য প্রতিচ্ছবি।

চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীতেও ভিন্নধর্মী নিরীক্ষা চালিয়েছেন পরিচালক ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ। চিরাচরিত সংলাপনির্ভর গল্পের পরিবর্তে তিনি বেশি জোর দিয়েছেন প্রতিচ্ছবিময় দীর্ঘ স্থির ফ্রেম, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ এবং নিশ্বাসের শব্দের ওপর। দর্শকের ওপর কোনো নির্দিষ্ট বার্তা বা সমাধান জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে, তাদের নিজেদের ভেতরের নিশ্বাসের শব্দ শোনার সুযোগ করে দেওয়াই এই নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তন্বীর রূপায়ন যেন প্রযোজকের নিজের মায়ের জীবনেরই ছায়া। করোনাকালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে চারপাশের সবাই যখন আশাহত, তখন মায়ের দৃঢ়তা এবং বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার অন্তিম প্রচেষ্টা এই শিল্পকর্মে গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। চলচ্চিত্রে তূর্য চরিত্রে অভিনয় করা ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং তন্বী চরিত্রে কাজী নওশাবা আহমেদের অভিনয় কাজটি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, তূর্যর মুখে অক্সিজেন মাস্ক এবং তার নল একটি কাচের ভেতর বন্দী ছোট্ট গাছের সাথে যুক্ত থাকার দৃশ্যটি দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের মতে, এই চলচ্চিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম সেরা ও গভীর উপলব্ধি। প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং ভালোবাসার টানাপোড়েন এই ছবির মূল চালিকাশক্তি। অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ মনে করেন, উন্নয়নের নামে সবুজ ধ্বংস করার যে মহোৎসব চলছে, তা একদিন মানবসভ্যতাকে চরম অক্সিজেন সংকটের মুখে ফেলবে। আর সেই আশঙ্কাজনক ভবিষ্যতের প্রতীকী কাব্য হলো এই চলচ্চিত্র। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচালক এটিকে নিছক পরিবেশবাদী কোনো প্রামাণ্যচিত্র না বানিয়ে মানুষের অন্তরের গল্প হিসেবেই তুলে ধরেছেন। যেখানে একটি গাছ কেবল প্রকৃতির উপাদান নয়, বরং দুটি মানুষের সম্পর্কের আয়না হয়ে ওঠে। ভালোবাসা ঠিক কোন মুহূর্তে যত্ন থেকে একরোখা জেদ হয়ে দাঁড়ায় এবং প্রিয়জনকে ধরে রাখা ও ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানের সূক্ষ্ম সীমারেখাই এই চলচ্চিত্রের মূল বার্তা। চরকিতে মুক্তির পর থেকেই শিল্পরসিক ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত ও চিন্তাজাগানিয়া কন্টেন্টের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয়

ঢাকায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

একবুক নিশ্বাসের আকুতি ও প্রকৃতির নির্মম বাস্তবতায় চরকিতে মুক্তি পেল ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’

আপডেট : ০১:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

করোনা মহামারির সময় একজন পিতার জীবনযুদ্ধের করুণ অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিবেশগত সংকটের পটভূমিতে নির্মিত সীমিত দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ এবং প্রযোজনা করেছেন মাহফুজ নাজিম। হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে সামান্য অক্সিজেনের জন্য একজন মানুষের সংগ্রাম দেখার ব্যক্তিগত বেদনা থেকেই এই সিনেমার জন্ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর প্রযোজক। চলচ্চিত্রটির নামকরণ কিছুটা জটিল মনে হতে পারে, তবে এর মূল ভাবনা একেবারেই সহজ—একটি নিশ্বাসের জন্য হাহাকার। নির্মাতা ও প্রযোজকের মতে, এটি কেবল করোনা বা হাসপাতালের চার দেয়ালের গল্প নয়; বরং যে হারে প্রকৃতির ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাতে বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়াটাই অদূর ভবিষ্যতে মানুষের প্রধান লড়াইয়ে পরিণত হবে। ঢাকার মতো জনবহুল ও দূষিত শহরের বাতাসের মান যখন প্রতিদিনের উদ্বেগের বিষয়, তখন এই চলচ্চিত্রের পটভূমিকে আর কল্পবিজ্ঞান বলা চলে না, বরং এটি বর্তমানের এক অনিবার্য প্রতিচ্ছবি।

চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীতেও ভিন্নধর্মী নিরীক্ষা চালিয়েছেন পরিচালক ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ। চিরাচরিত সংলাপনির্ভর গল্পের পরিবর্তে তিনি বেশি জোর দিয়েছেন প্রতিচ্ছবিময় দীর্ঘ স্থির ফ্রেম, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ এবং নিশ্বাসের শব্দের ওপর। দর্শকের ওপর কোনো নির্দিষ্ট বার্তা বা সমাধান জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে, তাদের নিজেদের ভেতরের নিশ্বাসের শব্দ শোনার সুযোগ করে দেওয়াই এই নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র তন্বীর রূপায়ন যেন প্রযোজকের নিজের মায়ের জীবনেরই ছায়া। করোনাকালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে চারপাশের সবাই যখন আশাহত, তখন মায়ের দৃঢ়তা এবং বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার অন্তিম প্রচেষ্টা এই শিল্পকর্মে গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। চলচ্চিত্রে তূর্য চরিত্রে অভিনয় করা ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং তন্বী চরিত্রে কাজী নওশাবা আহমেদের অভিনয় কাজটি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী দাগ কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, তূর্যর মুখে অক্সিজেন মাস্ক এবং তার নল একটি কাচের ভেতর বন্দী ছোট্ট গাছের সাথে যুক্ত থাকার দৃশ্যটি দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।

অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের মতে, এই চলচ্চিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম সেরা ও গভীর উপলব্ধি। প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং ভালোবাসার টানাপোড়েন এই ছবির মূল চালিকাশক্তি। অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ মনে করেন, উন্নয়নের নামে সবুজ ধ্বংস করার যে মহোৎসব চলছে, তা একদিন মানবসভ্যতাকে চরম অক্সিজেন সংকটের মুখে ফেলবে। আর সেই আশঙ্কাজনক ভবিষ্যতের প্রতীকী কাব্য হলো এই চলচ্চিত্র। তবে শেষ পর্যন্ত পরিচালক এটিকে নিছক পরিবেশবাদী কোনো প্রামাণ্যচিত্র না বানিয়ে মানুষের অন্তরের গল্প হিসেবেই তুলে ধরেছেন। যেখানে একটি গাছ কেবল প্রকৃতির উপাদান নয়, বরং দুটি মানুষের সম্পর্কের আয়না হয়ে ওঠে। ভালোবাসা ঠিক কোন মুহূর্তে যত্ন থেকে একরোখা জেদ হয়ে দাঁড়ায় এবং প্রিয়জনকে ধরে রাখা ও ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানের সূক্ষ্ম সীমারেখাই এই চলচ্চিত্রের মূল বার্তা। চরকিতে মুক্তির পর থেকেই শিল্পরসিক ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে চলচ্চিত্রটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত ও চিন্তাজাগানিয়া কন্টেন্টের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।