Hi

০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে আজ এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, অভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও রাজপথের মূল দাবি অর্জিত হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক দফা শুধু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পতনকেন্দ্রিক ছিল না; বরং তা ছিল একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার চূড়ান্ত বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভিত্তিপ্রস্তর। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রসংস্কার, আইনগত জবাবদিহি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো থমকে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে দেশের সাধারণ জনগণ ও আহত আন্দোলনের যোদ্ধারা বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে এবং রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না।

বর্তমান সরকারের গতিধারা ও বিচার কাঠামোর সমালোচনা করে এনসিপির সমন্বয়ক অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও গুম-খুনের মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া আহত আন্দোলনকারীদের জন্য ঘোষিত চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধাও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কার অর্জন সম্ভব নয়। সে কারণে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দলের সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রধান স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কোনো রাজনৈতিক দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে শহীদ পরিবারের চেতনা এবং জুলাই সনদের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে এনসিপির প্রধান সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের আহতদের সরকারি তালিকায় অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ে নাম যুক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের অবমূল্যায়নের নামান্তর।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম ও মাহমুদা আলম মিতুসহ অন্যান্য বক্তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অপরাধীদের আইনগত বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা একমত প্রকাশ করেন যে, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ যেন কোনো কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

জনপ্রিয়

লক্ষ্মীপুরের মেঘনাপাড়ে ধীবর আলোর পাঠশালার বার্ষিক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেওয়ার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

আপডেট : ০৮:২৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে আজ এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, অভ্যুত্থানের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও রাজপথের মূল দাবি অর্জিত হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক দফা শুধু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পতনকেন্দ্রিক ছিল না; বরং তা ছিল একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার চূড়ান্ত বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভিত্তিপ্রস্তর। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্রসংস্কার, আইনগত জবাবদিহি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো থমকে আছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে দেশের সাধারণ জনগণ ও আহত আন্দোলনের যোদ্ধারা বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে এবং রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না।

বর্তমান সরকারের গতিধারা ও বিচার কাঠামোর সমালোচনা করে এনসিপির সমন্বয়ক অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও গুম-খুনের মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া আহত আন্দোলনকারীদের জন্য ঘোষিত চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধাও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কার অর্জন সম্ভব নয়। সে কারণে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দলের সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রধান স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কোনো রাজনৈতিক দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে শহীদ পরিবারের চেতনা এবং জুলাই সনদের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে এনসিপির প্রধান সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলনের আহতদের সরকারি তালিকায় অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ে নাম যুক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের অবমূল্যায়নের নামান্তর।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম ও মাহমুদা আলম মিতুসহ অন্যান্য বক্তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অপরাধীদের আইনগত বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা একমত প্রকাশ করেন যে, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ যেন কোনো কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।