Hi

০৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত সফর স্থগিত: দিল্লির কাছে ঢাকার কঠিন শর্ত ও সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সফরের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও প্রস্তাব থাকলেও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বেশ কিছু শর্তের কারণে এই সফরটি আর আলোর মুখ দেখেনি। মূলত সম্পর্কের একটি নতুন ভিত্তি বা পুনর্বিন্যাস চায় ঢাকা, যা এই সফরের অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরটি আয়োজনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশ সরকার ‘নজীরবিহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এই ঘটনার কয়েক দিন পর, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরদিন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠকে বাংলাদেশের মনোভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। দিল্লির নির্দেশনা নিয়ে ফেরার পর সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনার গতি সঞ্চার হলেও, গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম ওই ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে দিল্লি সফরের আগে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন: প্রথমত, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং দ্বিতীয়ত, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তর। বাংলাদেশ এখন ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই শর্তগুলো ভারতের কাছে অনেকটা বিস্ময় হিসেবে এসেছে। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, এই ধরনের শর্ত দুদেশের সম্পর্ককে জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি মনে করেন, ভারত অতীতে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই এই শর্তগুলো সফরের পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীর অবশ্য বিষয়টিকে সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে শেখ হাসিনার উপস্থিতি, তার দলের সংশ্লিষ্টতা এবং সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার বিষয়টি এখানে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ এখন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থেকে কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের দিকে না ঝুঁকে জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনার বিকল্প নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি এই শর্তগুলোই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়, তবে পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা কিংবা জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর সমাধান কীভাবে হবে। তার মতে, রাজনীতির ভাষা দিয়েই দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের ভূমিকায় বাংলাদেশের ভেতরে এক ধরনের ‘অবিশ্বাস’ কাজ করছে। গত ৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দিল্লিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে এই ধরনের কৌশল বিপরীতমুখী।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়টি তাদের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও তার দলের তৎপরতা নিয়ে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা বরং আগ্রহী ছিলো দ্বিপক্ষীয় সফরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এমনকি সফরের সম্ভাব্য তারিখও দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাংলাদেশের এমন অবস্থানের কারণ কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি দেশেও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এগুলোকে যে শর্ত হিসেবে রেখে বলা হবে যে, এগুলো না হলে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটা হবে না বা (বৈঠকের) অনুকূল পরিবেশটা হচ্ছে না, অসুবিধেটা ভারতের এখানেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেটা যত তাড়াতাড়ি হতো, ততো ভালো হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ ভারত তার আগের অবস্থানেই আছে।

জনপ্রিয়

বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভারত সফর স্থগিত: দিল্লির কাছে ঢাকার কঠিন শর্ত ও সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

আপডেট : ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সফরের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ ও প্রস্তাব থাকলেও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বেশ কিছু শর্তের কারণে এই সফরটি আর আলোর মুখ দেখেনি। মূলত সম্পর্কের একটি নতুন ভিত্তি বা পুনর্বিন্যাস চায় ঢাকা, যা এই সফরের অনিশ্চয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরটি আয়োজনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই দিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রেস ব্রিফিংকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশ সরকার ‘নজীরবিহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এই ঘটনার কয়েক দিন পর, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরদিন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠকে বাংলাদেশের মনোভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। দিল্লির নির্দেশনা নিয়ে ফেরার পর সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনার গতি সঞ্চার হলেও, গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম ওই ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে দিল্লি সফরের আগে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন: প্রথমত, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং দ্বিতীয়ত, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তর। বাংলাদেশ এখন ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই শর্তগুলো ভারতের কাছে অনেকটা বিস্ময় হিসেবে এসেছে। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, এই ধরনের শর্ত দুদেশের সম্পর্ককে জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি মনে করেন, ভারত অতীতে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই এই শর্তগুলো সফরের পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীর অবশ্য বিষয়টিকে সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে শেখ হাসিনার উপস্থিতি, তার দলের সংশ্লিষ্টতা এবং সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার বিষয়টি এখানে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ এখন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থেকে কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের দিকে না ঝুঁকে জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনার বিকল্প নেই। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি এই শর্তগুলোই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়, তবে পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা কিংবা জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোর সমাধান কীভাবে হবে। তার মতে, রাজনীতির ভাষা দিয়েই দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা এবং শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের ভূমিকায় বাংলাদেশের ভেতরে এক ধরনের ‘অবিশ্বাস’ কাজ করছে। গত ৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দিল্লিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে এই ধরনের কৌশল বিপরীতমুখী।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়টি তাদের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও তার দলের তৎপরতা নিয়ে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকা বরং আগ্রহী ছিলো দ্বিপক্ষীয় সফরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুই দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এমনকি সফরের সম্ভাব্য তারিখও দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বাংলাদেশের এমন অবস্থানের কারণ কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি দেশেও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এগুলোকে যে শর্ত হিসেবে রেখে বলা হবে যে, এগুলো না হলে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটা হবে না বা (বৈঠকের) অনুকূল পরিবেশটা হচ্ছে না, অসুবিধেটা ভারতের এখানেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেটা যত তাড়াতাড়ি হতো, ততো ভালো হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ ভারত তার আগের অবস্থানেই আছে।