ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করা ৩০ বাংলাদেশি তরুণের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জীবন বাঁচিয়ে অবশেষে দেশে ফিরছেন রাজন হোসেন নামের এই তরুণ। তার এই ফিরে আসা যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়া অন্য ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মস্কোর স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজনকে উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি জানান, রাজনের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হওয়ার পরই তার প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আদ্দিস আবাবা হয়ে তিনি রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ এপ্রিল, যখন তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটির ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ জন কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চাকরির বদলে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান, ওই ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এই প্রতারণার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১ জুন তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)। সরকার এই তিন এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে।
রিপোর্টার নাম: 
























