Hi

১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেআইসির ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে এক-এগারোর সময় তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসি পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। শনিবার (৮ আগস্ট) এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই জেআইসি কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে সাক্ষীদের বর্ণনায় তথ্য মিলেছে। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত এসব তথ্য পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের বিচারে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মুখে মুখে থাকা এবং পরবর্তী সময়ে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করা এই গোপন বন্দিশালা সম্পর্কে বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখানে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী মতের মানুষদের ধরে এনে দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হতো। পরিদর্শনের সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, সেলগুলোর ভেতরের নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ আজও সেই ভয়াল নির্যাতনের সাক্ষ্য বহন করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অতি উৎসাহী ও দলীয় অনুগত অংশকে ব্যবহার করে দেশে এই ধরনের ত্রাসের রাজত্ব ও অমানবিক রাষ্ট্রকাঠামো কায়েম করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইন ও বিচার ব্যবস্থার অবস্থান স্পষ্ট করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাকে প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো নাগরিক যেন বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বন্দিশালায় বছরের পর বছর ধরে মানুষ গুম করে রাখার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার মূল উৎপাটন ঘটিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যবৃন্দ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই পরিদর্শনে অংশ নেন। এছাড়াও ডিজিএফআইয়ের প্রধানের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি ও সম্পাদকদের মধ্যে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না এবং সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর ও লুকানো অধ্যায়গুলো এখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আইনি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।

জনপ্রিয়

বিরোধী দলগুলো কিসের বিরোধিতা করে, মানুষ তা পরিষ্কার বোঝে না: মাহমুদুর রহমান মান্না

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জেআইসির ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে এক-এগারোর সময় তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

আপডেট : ১১:২২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসি পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। শনিবার (৮ আগস্ট) এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকাশ করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই জেআইসি কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে সাক্ষীদের বর্ণনায় তথ্য মিলেছে। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পরিদর্শন চালানো হয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত এসব তথ্য পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের বিচারে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মুখে মুখে থাকা এবং পরবর্তী সময়ে ‘আয়নাঘর’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করা এই গোপন বন্দিশালা সম্পর্কে বলতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এখানে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী মতের মানুষদের ধরে এনে দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হতো। পরিদর্শনের সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, সেলগুলোর ভেতরের নির্মম ও পৈশাচিক পরিবেশ আজও সেই ভয়াল নির্যাতনের সাক্ষ্য বহন করছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অতি উৎসাহী ও দলীয় অনুগত অংশকে ব্যবহার করে দেশে এই ধরনের ত্রাসের রাজত্ব ও অমানবিক রাষ্ট্রকাঠামো কায়েম করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইন ও বিচার ব্যবস্থার অবস্থান স্পষ্ট করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের কোনো নাগরিক অপরাধ করলে তাকে প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো নাগরিক যেন বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বন্দিশালায় বছরের পর বছর ধরে মানুষ গুম করে রাখার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার মূল উৎপাটন ঘটিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যবৃন্দ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই পরিদর্শনে অংশ নেন। এছাড়াও ডিজিএফআইয়ের প্রধানের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি ও সম্পাদকদের মধ্যে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না এবং সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর ও লুকানো অধ্যায়গুলো এখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আইনি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।