আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম—কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে জামায়াত আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। এই লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্যের একটি শীর্ষ বৈঠক রবিবার তলব করা হয়েছে। ওই বৈঠকে যৌথভাবে একক বা দলভিত্তিক রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকেই গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট এই পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির গত ১ আগস্টের বৈঠকে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর রাষ্ট্রপতি পদে একক দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের পূর্ণ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও কেউ কেউ এই দৌড়ে রাখছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রার্থীদের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দল ও সরকারের সামগ্রিক কাঠামোর কোথায় কার অবদান বা ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে কেবল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই নয়, বরং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কারের চলমান ইস্যু এবং ১১-দলীয় ঐক্যের যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই নির্বাচনমুখী ঘোষণা এবং বিরোধী জোটের কৌশলগত প্রস্তুতি দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আগামীকালের ১১-দলীয় ঐক্যের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে বিরোধী পক্ষ থেকে একক কোনো প্রার্থী মাঠে নামানো হবে কি না এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তা কী ধরনের প্রভাব ফেলবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 






















