Hi

০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতির সংকটময় মুহূর্তে আলেমদের অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জামায়াত আমিরের

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আলেম সমাজকে কেবল ওয়াজ-নসিহত বা ইমামতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির সঠিক পথনির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানকে উপজীব্য করে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা আলেম-ওলামারা অংশগ্রহণ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আলেমদের পারস্পরিক মতপার্থক্যকে ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়, তবে এই ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা বা কটূক্তি করা কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল ও কল্যাণকামী আচরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাই দেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য। একটি ধারাকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আলেমদের জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সম্মেলনে বর্তমান সামাজিক অস্থিরতা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলেমদের সত্যের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আলেমদের যে সংযোগ রয়েছে, তা সমাজ পরিবর্তনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামি অনুশাসনের সঠিক ব্যাখ্যা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলেমদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলন শেষে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মাদরাসা ও কলেজে ইসলামি শিক্ষা সংকোচন বন্ধ করা, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য স্বতন্ত্র সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল বাস্তবায়ন, এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ। এছাড়া ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বে মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। শান্তি ও মানবতার বিজয় নিশ্চিত করতে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যের ডাক দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়।

জনপ্রিয়

চরম বিপদেও কেন মৃত্যু কামনা নয়? জীবনের সংকট ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতির সংকটময় মুহূর্তে আলেমদের অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জামায়াত আমিরের

আপডেট : ০৩:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আলেম সমাজকে কেবল ওয়াজ-নসিহত বা ইমামতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির সঠিক পথনির্দেশনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘মতবিরোধ নয়, ঐক্যেই গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানকে উপজীব্য করে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা আলেম-ওলামারা অংশগ্রহণ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আলেমদের পারস্পরিক মতপার্থক্যকে ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়, তবে এই ভিন্নতার কারণে কাউকে অসম্মান করা বা কটূক্তি করা কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল ও কল্যাণকামী আচরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাই দেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য। একটি ধারাকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আলেমদের জ্ঞানচর্চায় আরও মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সম্মেলনে বর্তমান সামাজিক অস্থিরতা, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলেমদের সত্যের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আলেমদের যে সংযোগ রয়েছে, তা সমাজ পরিবর্তনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামি অনুশাসনের সঠিক ব্যাখ্যা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলেমদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলন শেষে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মাদরাসা ও কলেজে ইসলামি শিক্ষা সংকোচন বন্ধ করা, ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য স্বতন্ত্র সার্ভিস রুল ও পে-স্কেল বাস্তবায়ন, এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ। এছাড়া ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বে মুসলিম নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। শান্তি ও মানবতার বিজয় নিশ্চিত করতে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যের ডাক দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শেষ হয়।