বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত হারের শঙ্কায় থাকা থ্রি লায়ন্সরা শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। টমাস টুখেলের শিষ্যদের এই জয়টি ছিল ধৈর্য এবং অভিজ্ঞতার এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা তাদের পরবর্তী রাউন্ডের লড়াইয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই ডিআর কঙ্গো তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বেশ চাপে রেখেছিল। বেনি সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ টমাস টুখেল কৌশলগত পরিবর্তন আনলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান হ্যারি কেইন। এই গোলটি দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং আক্রমণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সমতা ফেরার পরপরই ডিআর কঙ্গো রক্ষণভাগ সামলাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে। কোচ নোয়া মুকাউ এবং বেনি সিপেঙ্গাকে তুলে নিয়ে থিও বংগোন্ডা ও এদো কায়েম্বেকে মাঠে নামান, যাতে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। কিন্তু ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ আক্রমণভাগের সামনে তাদের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইন আবারও জ্বলে ওঠেন এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে জয় এনে দেন।
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে রাউন্ড অব-১৬-এ জায়গা করে নিল। নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো। ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াইটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। স্বাগতিক দর্শকদের সামনে মেক্সিকোকে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় তারা জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেইনের নেতৃত্বের এই ইংল্যান্ড দল এখন যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।
রিপোর্টার নাম: 





















