Hi

০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেফারিংয়ের দ্বিমুখী নীতি: বালোগানের লাল কার্ড ও মেসির ঘটনার তুলনা ঘিরে বিতর্ক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোবিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে এই জয়ের ম্যাচে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে, যখন বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর অসাবধানতাবশত পা দিয়ে বসেন বালোগান। শুরুতে রেফারি কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে মনিটর দেখে তিনি বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এই ঘটনাটি ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে করিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির বিতর্কিত ট্যাকলটির কথা। সে ম্যাচে মেসি একইভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের ওপর পা তুলে দিলেও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক তাকে কোনো কার্ড দেননি। এই বৈপরীত্য নিয়ে বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের অপরাধে কেন দুই খেলোয়াড়ের জন্য দুই ধরনের বিচার হবে? ফার্ডিনান্ডের মতে, ভিএআর প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলেও, মাঠের সিদ্ধান্তের এই অসামঞ্জস্যতা খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো রেফারির এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বালোগানের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না প্রতিপক্ষকে আঘাত করার এবং এটি কোনোভাবেই সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ নয়। এছাড়া ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক ফুটবলার সু স্মিথও মন্তব্য করেছেন যে, ভিডিও রিপ্লেতে ঘটনাটি অনেক সময় ধীরগতিতে দেখলে যতটা ভয়াবহ মনে হয়, স্বাভাবিক গতিতে তা ততটা নয়। সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও রেফারির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মাঠের আম্পায়ারদের আরও বিচক্ষণ হওয়া উচিত ছিল। এই লাল কার্ডের ফলে বালোগান এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের বাইরে থাকবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা। ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিএআর ব্যবহারের নীতিমালা এবং রেফারির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতা।

জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে এনএসইউর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ চ্যালেঞ্জ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রেফারিংয়ের দ্বিমুখী নীতি: বালোগানের লাল কার্ড ও মেসির ঘটনার তুলনা ঘিরে বিতর্ক

আপডেট : ১১:৪৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোবিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তবে এই জয়ের ম্যাচে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান ম্যাচের ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রেফারির সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে, যখন বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর অসাবধানতাবশত পা দিয়ে বসেন বালোগান। শুরুতে রেফারি কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর কর্মকর্তাদের পরামর্শে মনিটর দেখে তিনি বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এই ঘটনাটি ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে করিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের শুরুর দিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির বিতর্কিত ট্যাকলটির কথা। সে ম্যাচে মেসি একইভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের ওপর পা তুলে দিলেও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক তাকে কোনো কার্ড দেননি। এই বৈপরীত্য নিয়ে বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের অপরাধে কেন দুই খেলোয়াড়ের জন্য দুই ধরনের বিচার হবে? ফার্ডিনান্ডের মতে, ভিএআর প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলেও, মাঠের সিদ্ধান্তের এই অসামঞ্জস্যতা খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো রেফারির এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বালোগানের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না প্রতিপক্ষকে আঘাত করার এবং এটি কোনোভাবেই সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ নয়। এছাড়া ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক ফুটবলার সু স্মিথও মন্তব্য করেছেন যে, ভিডিও রিপ্লেতে ঘটনাটি অনেক সময় ধীরগতিতে দেখলে যতটা ভয়াবহ মনে হয়, স্বাভাবিক গতিতে তা ততটা নয়। সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও রেফারির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মাঠের আম্পায়ারদের আরও বিচক্ষণ হওয়া উচিত ছিল। এই লাল কার্ডের ফলে বালোগান এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের বাইরে থাকবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা। ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভিএআর ব্যবহারের নীতিমালা এবং রেফারির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমাবদ্ধতা।