Hi

১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ: বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন টানাপোড়েন

  • ডেস্ক সংবাদ
  • আপডেট : ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে শুল্কের আওতায় পড়া বিভিন্ন রাষ্ট্র। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। তবে এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন বহুল আলোচিত শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছিল। চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এই নতুন শুল্ক আরোপ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল দেশটির বিরুদ্ধে ওঠা জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে জানিয়েছেন যে আধুনিক দাসত্ব ও শ্রম অধিকার রক্ষায় অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন নীতি অনুসরণ করে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর পক্ষে পর্যাপ্ত ও অর্থবহ প্রমাণের ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। দেশটির সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে পূর্ববর্তী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় ব্রিটিশ রপ্তানি খাত এই নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে জাপানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। জাপানি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তাদের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক শ্রম ও গুণগত মানদণ্ড বজায় রেখেই পরিচালিত হয়, ফলে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নতুন শুল্কের বিষয়ে কিছুটা সতর্ক ও মাপা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ব্রাসেলস মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর পূর্ববর্তী বাণিজ্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে এই নীতির বড় ধরনের কোনো চ্যুতি ঘটেনি। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরাশক্তি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্কের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং বরাবরের মতো একতরফা শুল্ক ও বাণিজ্যযুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং চীনের শীর্ষ নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেতে পারে। পাশাপাশি, এই শুল্কনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের রপ্তানি বাজারেও। দেশটির বস্ত্র ও পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন ও রপ্তানিকারকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পণ্যের শুল্ক ছাড়ের তালিকায় ভারত না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তারা তীব্র বৈষম্যের শিকার হবেন এবং এর ফলে মূল্যবান রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই নতুন মার্কিন শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে।

জনপ্রিয়

পশ্চিমবঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের মিছিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: গুন্ডা দমন আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ: বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন টানাপোড়েন

আপডেট : ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে যথেষ্ট কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে শুল্কের আওতায় পড়া বিভিন্ন রাষ্ট্র। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করা এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। তবে এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন বহুল আলোচিত শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছিল। চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এই নতুন শুল্ক আরোপ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল দেশটির বিরুদ্ধে ওঠা জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে জানিয়েছেন যে আধুনিক দাসত্ব ও শ্রম অধিকার রক্ষায় অস্ট্রেলিয়া অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন নীতি অনুসরণ করে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং এর পক্ষে পর্যাপ্ত ও অর্থবহ প্রমাণের ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। দেশটির সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে পূর্ববর্তী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় ব্রিটিশ রপ্তানি খাত এই নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে জাপানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। জাপানি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তাদের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক শ্রম ও গুণগত মানদণ্ড বজায় রেখেই পরিচালিত হয়, ফলে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই নতুন শুল্কের বিষয়ে কিছুটা সতর্ক ও মাপা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ব্রাসেলস মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর পূর্ববর্তী বাণিজ্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে এই নীতির বড় ধরনের কোনো চ্যুতি ঘটেনি। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরাশক্তি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্কের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং বরাবরের মতো একতরফা শুল্ক ও বাণিজ্যযুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং চীনের শীর্ষ নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেতে পারে। পাশাপাশি, এই শুল্কনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের রপ্তানি বাজারেও। দেশটির বস্ত্র ও পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন ও রপ্তানিকারকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পণ্যের শুল্ক ছাড়ের তালিকায় ভারত না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তারা তীব্র বৈষম্যের শিকার হবেন এবং এর ফলে মূল্যবান রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই নতুন মার্কিন শুল্ক নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে।