Hi

১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় জাসদের সাবেক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা, মাথায় ১১ সেলাই

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজনীতি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নেতা আনোয়ারুল কবিরের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এই হামলার শিকার হন তিনি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় মোট ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির। ঠিক সে সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মাথায় সজোরে কোপ দেয়। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে থাকা দুলাল ও নুরু নামের আরও দুই ব্যক্তি আহত হন। হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ওই সময় ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক সহায়তায় আনোয়ারুলকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ারুল কবির ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়রের পদ হারান। তিনি দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে গত ২৯ জুন নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি দলটির সব রাজনৈতিক পদ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দলত্যাগের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এমন প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন তিনি।

আহত সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির দাবি করেছেন, নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস এস আল হোসাইন সোহাগ এবং চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারের নেতৃত্বে এই হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাসদের রাজনীতি করার অপরাধে আর প্রকাশ্য সড়কে চলাফেরা করা যাবে না—এমন হুমকি দিয়ে ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ।

এদিকে আনোয়ারুল কবিরের আনীত এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ। তাঁর দাবি, আনোয়ারুলের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পর্কে মামা-ভাগনে। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে আমি কেন এমন জঘন্য কাজ করতে যাব? আনোয়ারুল কবির আসন্ন পৌর নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’

অন্যদিকে, ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, পেছনের দিক থেকে আনোয়ারুল কবিরের ওপর হামলার খবর তাঁরা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় একই দিনে বাবা ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কুষ্টিয়ায় জাসদের সাবেক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলা, মাথায় ১১ সেলাই

আপডেট : ১১:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজনীতি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নেতা আনোয়ারুল কবিরের ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এই হামলার শিকার হন তিনি। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় মোট ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির। ঠিক সে সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মাথায় সজোরে কোপ দেয়। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে থাকা দুলাল ও নুরু নামের আরও দুই ব্যক্তি আহত হন। হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ওই সময় ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক সহায়তায় আনোয়ারুলকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ারুল কবির ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়রের পদ হারান। তিনি দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তবে গত ২৯ জুন নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি দলটির সব রাজনৈতিক পদ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দলত্যাগের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এমন প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন তিনি।

আহত সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবির দাবি করেছেন, নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস এস আল হোসাইন সোহাগ এবং চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারের নেতৃত্বে এই হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, জাসদের রাজনীতি করার অপরাধে আর প্রকাশ্য সড়কে চলাফেরা করা যাবে না—এমন হুমকি দিয়ে ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ।

এদিকে আনোয়ারুল কবিরের আনীত এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগ। তাঁর দাবি, আনোয়ারুলের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সম্পর্কে মামা-ভাগনে। একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে আমি কেন এমন জঘন্য কাজ করতে যাব? আনোয়ারুল কবির আসন্ন পৌর নির্বাচনে আমার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’

অন্যদিকে, ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, পেছনের দিক থেকে আনোয়ারুল কবিরের ওপর হামলার খবর তাঁরা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।