Hi

০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব শেখ সেলিমের, রাজনীতিতে নেই রেহানা: শেখ হাসিনা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেখ সেলিম দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় এই দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রেহানা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন।

দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি পুনরায় ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে জীবননাশের হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে তিনি কাউকে বিপদে ফেলে দেশে ফেরার কোনো নির্দেশনা দিতে চান না, কারণ প্রত্যেকের জীবনেরই ঝুঁকি রয়েছে।

দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শেখ হাসিনার মতে, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ভারত সরকার কী ভেবে এই নির্বাচনকে সমর্থন করেছিল বা তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনেছিল, তা তারাই ভালো বলতে পারবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, দেশ ধ্বংস হতে দেখে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, তারেক বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করলেও তিনি কখনো তাতে বাধা দেননি। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষিকে তিনি নিজের দেশকেই খাটো করার শামিল বলে মনে করেন।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো সামরিক জোটের চেয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য বেশি জরুরি। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবশেষে, নিজের দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছার কথা জানালেও, তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারো জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

জনপ্রিয়

উপজেলাভিত্তিক হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জানালেন ইসি সচিব

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব শেখ সেলিমের, রাজনীতিতে নেই রেহানা: শেখ হাসিনা

আপডেট : ১০:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেখ সেলিম দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় এই দায়িত্ব তার ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রেহানা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন।

দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় শেখ হাসিনা তার দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি পুনরায় ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে এয়ারপোর্টেই তাকে জীবননাশের হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে তিনি কাউকে বিপদে ফেলে দেশে ফেরার কোনো নির্দেশনা দিতে চান না, কারণ প্রত্যেকের জীবনেরই ঝুঁকি রয়েছে।

দেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শেখ হাসিনার মতে, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির বিস্তার ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদীদের উত্থানের খেসারত ভারতকেও দিতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ভারত সরকার কী ভেবে এই নির্বাচনকে সমর্থন করেছিল বা তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনেছিল, তা তারাই ভালো বলতে পারবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, দেশ ধ্বংস হতে দেখে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে বলেন, তারেক বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করলেও তিনি কখনো তাতে বাধা দেননি। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দর কষাকষিকে তিনি নিজের দেশকেই খাটো করার শামিল বলে মনে করেন।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো সামরিক জোটের চেয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য বেশি জরুরি। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবশেষে, নিজের দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছার কথা জানালেও, তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে অন্য কারো জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সেই বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।