Hi

০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম প্রতিরোধ আইন: ২৪ ঘণ্টা পর তথ্য গোপন করলেই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তিকে আটকের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও যদি তার তথ্য গোপন রাখা হয়, পরিবারের কাছে আটকের স্থান প্রকাশ না করা হয় কিংবা তাকে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা গুমের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন এই আইন দেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আগে গুম প্রতিরোধে অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ ছিল না, তবে নতুন আইনে গুমের একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই সময়ের পর যদি আটকের বিষয়টি গোপন রাখা হয়, স্থান জানানো না হয় বা স্বাধীনতা হরণ করা হয়, তবে ২৪ ঘণ্টা পরবর্তী সময় থেকে তা গুমের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গুমের ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি কোনো সদস্য যদি সহযোগিতা বা প্ররোচনায় যুক্ত থাকেন, তবে তারাও আইনের আওতায় আসবেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, এতদিন গুমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় এখন নতুন আইনের আলোকে অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আসবে। আর যেসব ঘটনা এই সংজ্ঞার বাইরে থাকবে, সেগুলো স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর নতুন আইনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, জরিমানা ও ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া রুলস অব প্রসিডিউরে বিস্তারিত নয়। তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুসরণের বিষয়ে রায়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে সরকারের জন্য রায় বাস্তবায়ন সহজ হবে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং একটি সেমিনারের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হলে আপিল করার আর কোনো সুযোগ থাকে না। শেখ হাসিনা বা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ—সবার ক্ষেত্রেই আইন সমান। তিনি আরও বলেন, আবুল কালাম আজাদকে আত্মসমর্পণের শর্তে আপিলের সুযোগ দেওয়ার যে আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই ট্রাইব্যুনাল সেই আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেনি। তবে সরকারের সাজা স্থগিত করার এখতিয়ার রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

মামলা স্থানান্তর বা তদন্ত বন্ধের ক্ষমতার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১০ সালের রুলস অব প্রসিডিউরের সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো মামলা তদন্তাধীন থাকলে তিনি তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার অন্য কোনো সংস্থার তদন্তাধীন মামলা প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে আনা বা অন্য কোথাও চলমান বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের কোনো সুযোগ নেই, এটি কেবল চিফ প্রসিকিউটরের এখতিয়ারভুক্ত।

ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক প্রভাবশালী আসামির রায় সামনে থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগার থেকে আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন এবং পরে কারাগারে ফেরত পাঠানোর সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো পলাতক আসামি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে তার আপিল করার সুযোগ নেই।’ তার ভাষ্য, রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হলে তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো আইনগত পথ থাকে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাজা স্থগিতের ক্ষমতা সরকারের, তবে আপিলের শর্ত বেআইনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী মামলা স্থানান্তর বা তদন্ত বন্ধের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের ক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জনপ্রিয়

উপজেলাভিত্তিক হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জানালেন ইসি সচিব

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

গুম প্রতিরোধ আইন: ২৪ ঘণ্টা পর তথ্য গোপন করলেই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে

আপডেট : ০২:০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তিকে আটকের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও যদি তার তথ্য গোপন রাখা হয়, পরিবারের কাছে আটকের স্থান প্রকাশ না করা হয় কিংবা তাকে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তা গুমের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন এই আইন দেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আগে গুম প্রতিরোধে অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ ছিল না, তবে নতুন আইনে গুমের একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই সময়ের পর যদি আটকের বিষয়টি গোপন রাখা হয়, স্থান জানানো না হয় বা স্বাধীনতা হরণ করা হয়, তবে ২৪ ঘণ্টা পরবর্তী সময় থেকে তা গুমের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গুমের ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের পাশাপাশি কোনো সদস্য যদি সহযোগিতা বা প্ররোচনায় যুক্ত থাকেন, তবে তারাও আইনের আওতায় আসবেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, এতদিন গুমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় এখন নতুন আইনের আলোকে অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আসবে। আর যেসব ঘটনা এই সংজ্ঞার বাইরে থাকবে, সেগুলো স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর নতুন আইনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, জরিমানা ও ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া রুলস অব প্রসিডিউরে বিস্তারিত নয়। তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুসরণের বিষয়ে রায়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে সরকারের জন্য রায় বাস্তবায়ন সহজ হবে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং একটি সেমিনারের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। এই সময়সীমা পার হলে আপিল করার আর কোনো সুযোগ থাকে না। শেখ হাসিনা বা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ—সবার ক্ষেত্রেই আইন সমান। তিনি আরও বলেন, আবুল কালাম আজাদকে আত্মসমর্পণের শর্তে আপিলের সুযোগ দেওয়ার যে আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, তা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই ট্রাইব্যুনাল সেই আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেনি। তবে সরকারের সাজা স্থগিত করার এখতিয়ার রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

মামলা স্থানান্তর বা তদন্ত বন্ধের ক্ষমতার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১০ সালের রুলস অব প্রসিডিউরের সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো মামলা তদন্তাধীন থাকলে তিনি তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার অন্য কোনো সংস্থার তদন্তাধীন মামলা প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালে আনা বা অন্য কোথাও চলমান বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন করার ক্ষমতাও তার রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের কোনো সুযোগ নেই, এটি কেবল চিফ প্রসিকিউটরের এখতিয়ারভুক্ত।

ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক প্রভাবশালী আসামির রায় সামনে থাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগার থেকে আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন এবং পরে কারাগারে ফেরত পাঠানোর সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কোনো পলাতক আসামি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে তার আপিল করার সুযোগ নেই।’ তার ভাষ্য, রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হলে তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো আইনগত পথ থাকে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাজা স্থগিতের ক্ষমতা সরকারের, তবে আপিলের শর্ত বেআইনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী মামলা স্থানান্তর বা তদন্ত বন্ধের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের ক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।