Hi

১২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ভূমিকায় মাহমুদউল্লাহ: মেন্টর হিসেবে মিরপুরে প্রথম দিন কাটল যেভাবে

জাতীয় দলের দীর্ঘ দেড় যুগের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এবার নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। খেলোয়াড়ি জীবনের পাট পুরোপুরি না চুকালেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অনুশীলনে যোগ দেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবে আজকের দিনটি তাঁর নিজের অনুশীলনের জন্য ছিল না, বরং আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে জুনিয়র ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

সকালে মিরপুরের উইকেটে যখন এইচপি ও ‘এ’ দলের তরুণরা ঘাম ঝরাচ্ছিলেন, তখন ডাগআউট থেকে শুরু করে সেন্টার উইকেটের আশপাশে সাবলীল ভঙ্গিতে বিচরণ করতে দেখা যায় মাহমুদউল্লাহকে। তরুণদের শুধু দূর থেকে পর্যবেক্ষণই করেননি, বরং নেটে অনুশীলনের সময় তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের নানা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেন। অনেক জুনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গেই তাঁর জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার ফলে নতুন এই মেন্টরের সঙ্গে তরুণদের বোঝাপড়াটা বেশ সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। মাঠের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার সময়ও তাঁর হাতে ব্যাট ও বল দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে কোচিং ও মেন্টরিংয়ের এই নতুন পেশায় তিনি কতটা নিবেদিত ও কৌতূহলী।

নতুন এই পরিচয়ে মিরপুরের মাঠে পা রেখে বেশ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মেজাজে দেখা গেছে মাহমুদউল্লাহকে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিসিবি। প্রোটিয়া কন্ডিশনে আমাদের তরুণরা কীভাবে মানিয়ে নেবে এবং নিজেদের সেরাটা দেবে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

এদিকে মাহমুদউল্লাহর অনুশীলনের প্রথম দিনে মিরপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং নির্বাচক নাঈম ইসলাম। এই দুই নির্বাচকের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহকে বেশ কিছুক্ষণ দীর্ঘ আলোচনা করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য সম্ভাব্য দল গঠন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, টেকনিক্যাল সামর্থ্য এবং কন্ডিশন উপযোগী স্কোয়াড সাজানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি জাতীয় দলের এই সাবেক সাইলেন্ট কিলার এবার মাঠের বাইরে থেকেও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শুরু করলেন, যা বাংলাদেশি ক্রিকেটের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।

জনপ্রিয়

রংপুরে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট পড়ে রিকশাচালক নিহত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নতুন ভূমিকায় মাহমুদউল্লাহ: মেন্টর হিসেবে মিরপুরে প্রথম দিন কাটল যেভাবে

আপডেট : ১০:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় দলের দীর্ঘ দেড় যুগের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এবার নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। খেলোয়াড়ি জীবনের পাট পুরোপুরি না চুকালেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অনুশীলনে যোগ দেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তবে আজকের দিনটি তাঁর নিজের অনুশীলনের জন্য ছিল না, বরং আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে জুনিয়র ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেই মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

সকালে মিরপুরের উইকেটে যখন এইচপি ও ‘এ’ দলের তরুণরা ঘাম ঝরাচ্ছিলেন, তখন ডাগআউট থেকে শুরু করে সেন্টার উইকেটের আশপাশে সাবলীল ভঙ্গিতে বিচরণ করতে দেখা যায় মাহমুদউল্লাহকে। তরুণদের শুধু দূর থেকে পর্যবেক্ষণই করেননি, বরং নেটে অনুশীলনের সময় তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের নানা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেন। অনেক জুনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গেই তাঁর জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে ড্রেসিংরুম শেয়ার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার ফলে নতুন এই মেন্টরের সঙ্গে তরুণদের বোঝাপড়াটা বেশ সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। মাঠের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাওয়ার সময়ও তাঁর হাতে ব্যাট ও বল দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে কোচিং ও মেন্টরিংয়ের এই নতুন পেশায় তিনি কতটা নিবেদিত ও কৌতূহলী।

নতুন এই পরিচয়ে মিরপুরের মাঠে পা রেখে বেশ হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত মেজাজে দেখা গেছে মাহমুদউল্লাহকে। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিসিবি। প্রোটিয়া কন্ডিশনে আমাদের তরুণরা কীভাবে মানিয়ে নেবে এবং নিজেদের সেরাটা দেবে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

এদিকে মাহমুদউল্লাহর অনুশীলনের প্রথম দিনে মিরপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং নির্বাচক নাঈম ইসলাম। এই দুই নির্বাচকের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহকে বেশ কিছুক্ষণ দীর্ঘ আলোচনা করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য সম্ভাব্য দল গঠন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, টেকনিক্যাল সামর্থ্য এবং কন্ডিশন উপযোগী স্কোয়াড সাজানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করার পাশাপাশি জাতীয় দলের এই সাবেক সাইলেন্ট কিলার এবার মাঠের বাইরে থেকেও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শুরু করলেন, যা বাংলাদেশি ক্রিকেটের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।