চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক কন্যাসন্তান অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নতুন মা-বাবা ও নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে। স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক অটোরিকশাচালক ও তাঁর স্ত্রীর জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়েছে। এই মানবিক পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই ভোরের দিকে বাঁশখালীর শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাখালী এলাকা থেকে সম্পূর্ণ অপরিচিত অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকের পরিবার। শিশুটিকে উদ্ধারের পরপরই ওই পরিবারটি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ডেকে তার প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে এবং নিজেদের তত্ত্বাবধানে পরম যত্নে লালন-পালন করতে শুরু করে।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘মায়া সংঘ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনটির সভাপতি গিয়াস উদ্দীন আকবর চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, যে পরিবারটি শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল, তারাই মূলত তাকে নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালনের প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
নবজাতককে নতুন ঠিকানা দেওয়া ওই অটোরিকশাচালক দম্পতি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতো দেখাশোনা করার কারণে তার প্রতি তাদের গভীর মায়া জন্মেছিল। তাই তাকে অন্য কারও হাতে তুলে দিতে তাদের মন সায় দিচ্ছিল না। জানা গেছে, ওই দম্পতির ঘরে ইতোমধ্যে পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান বা পুত্রসন্তান রয়েছে, যার ফলে নবজাতকটিকে লালন-পালন করতে তাদের কোনো ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্টদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক নির্দেশনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শিশুটির পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল উদ্ধারকারী পরিবারটির মানবিক আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি 
























