Hi

০১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের মিছিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: গুন্ডা দমন আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি ছাত্র বিক্ষোভে সংবাদকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের তরফ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে কলকাতার রাজপথে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত ওই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারসহ শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করা। তবে মিছিলটি যখন ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় এসে পৌঁছায়, তখন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও পানির বোতল ছোড়া হয়, যার ফলে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হন। পরবর্তীতে তাদের স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শনিবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে এই অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিধানসভায় জানানো হয়, শুক্রবারের এই সহিংস বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অন্তত ৭০ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট সাতটি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি মামলা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এবং বাকি দুটি পুলিশের তরফ থেকে দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম রাজ্যে বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ‘গুন্ডা দমন আইন’ বা অ্যান্টি-গুন্ডা অ্যাক্টের ধারাগুলো এসব মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিধানসভায় কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়, চিহ্নিত অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কোনো সাধারণ ছাত্র বা ছাত্র সংগঠনের সদস্য নন। এমনকি তারা মূল ‘নিট’ আন্দোলন বা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও যুক্ত নয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, কলকাতার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকা যেমন রাজাবাজার, খিদিরপুর, একবালপুর এবং ওয়াটগঞ্জ থেকে কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এই মিছিলে অনুপ্রবেশ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধানো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো। ইতিমধ্যে চিহ্নিত অভিযুক্তদের মধ্যে আফরোজ, নাহিদ, তানভীর, নিজাম এবং রাহুল জামালের মতো বেশ কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলেও সংবাদকর্মীদের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ বা হেনস্তা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং গুন্ডা দমন আইনের কঠোরতম ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় একই দিনে বাবা ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পশ্চিমবঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের মিছিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: গুন্ডা দমন আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ

আপডেট : ১২:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি ছাত্র বিক্ষোভে সংবাদকর্মীদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের তরফ থেকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার জেরে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে কলকাতার রাজপথে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত ওই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারসহ শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করা। তবে মিছিলটি যখন ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিং এলাকায় এসে পৌঁছায়, তখন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও পানির বোতল ছোড়া হয়, যার ফলে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হন। পরবর্তীতে তাদের স্থানীয় হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শনিবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে এই অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিধানসভায় জানানো হয়, শুক্রবারের এই সহিংস বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অন্তত ৭০ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট সাতটি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি মামলা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এবং বাকি দুটি পুলিশের তরফ থেকে দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম রাজ্যে বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ‘গুন্ডা দমন আইন’ বা অ্যান্টি-গুন্ডা অ্যাক্টের ধারাগুলো এসব মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিধানসভায় কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়, চিহ্নিত অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিশৃঙ্খলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কোনো সাধারণ ছাত্র বা ছাত্র সংগঠনের সদস্য নন। এমনকি তারা মূল ‘নিট’ আন্দোলন বা প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও যুক্ত নয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, কলকাতার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকা যেমন রাজাবাজার, খিদিরপুর, একবালপুর এবং ওয়াটগঞ্জ থেকে কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে এই মিছিলে অনুপ্রবেশ করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধানো এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো। ইতিমধ্যে চিহ্নিত অভিযুক্তদের মধ্যে আফরোজ, নাহিদ, তানভীর, নিজাম এবং রাহুল জামালের মতো বেশ কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলেও সংবাদকর্মীদের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ বা হেনস্তা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং গুন্ডা দমন আইনের কঠোরতম ধারা প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।