Hi

০৯:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত অন্তত ২১

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৩৮ জন দেখেছে

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই দেশজুড়ে এমন একটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক বাস্তবতায় রূপ নিল।

সোমবারের এই আক্রমণ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী। রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সরাসরি আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে আঘাত করে। রাজধানী কিয়েভের আকাশপথে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে ফেলে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার এই কৌশলগত হামলা মূলত দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভাঙার জন্য রাশিয়া এই নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ইউক্রেনীয় জনগণ লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে, কিয়েভের রাস্তায় সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী এবং জরুরি বিভাগের কর্মীদের অদম্য তৎপরতা দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহতদের উদ্ধার করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, রাশিয়ার এই আক্রমণ চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জন্য এক নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত পার হচ্ছে মৃত্যুভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোও আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

জনপ্রিয়

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলা হচ্ছে না বাবর আজমের

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত অন্তত ২১

আপডেট : ১১:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই দেশজুড়ে এমন একটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক বাস্তবতায় রূপ নিল।

সোমবারের এই আক্রমণ ছিল সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী। রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সরাসরি আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে আঘাত করে। রাজধানী কিয়েভের আকাশপথে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে ফেলে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার এই কৌশলগত হামলা মূলত দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভাঙার জন্য রাশিয়া এই নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ইউক্রেনীয় জনগণ লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে, কিয়েভের রাস্তায় সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী এবং জরুরি বিভাগের কর্মীদের অদম্য তৎপরতা দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহতদের উদ্ধার করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, রাশিয়ার এই আক্রমণ চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তবে এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জন্য এক নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত পার হচ্ছে মৃত্যুভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোও আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।