Hi

১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি হুম্মাম কাদের চৌধুরীর

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৮:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বুধবার (১ জুলাই) নিহত মাসুদের কবর জিয়ারত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এলাকায় ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে কঠোর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে এই সংসদ সদস্য স্থানীয় একটি ‘বালি সিন্ডিকেট’ বা মাফিয়া চক্রের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মাসুদ চৌধুরী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে হামলা চালিয়েছে তাদের বিচার করলেই হবে না, বরং যারা অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে এবং খুনিদের ভাড়া করেছে, তাদেরও খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কবর জিয়ারতের সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

এইচএসসি পরীক্ষা: বৃষ্টি ও যানজটের বাধা পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর লড়াই

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি হুম্মাম কাদের চৌধুরীর

আপডেট : ০৮:৪৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বুধবার (১ জুলাই) নিহত মাসুদের কবর জিয়ারত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নিহত মাসুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এলাকায় ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে, বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। হুম্মাম কাদের চৌধুরী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে কঠোর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে এই সংসদ সদস্য স্থানীয় একটি ‘বালি সিন্ডিকেট’ বা মাফিয়া চক্রের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মাসুদ চৌধুরী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং এর প্রতিবাদ করায় তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শুধু যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে হামলা চালিয়েছে তাদের বিচার করলেই হবে না, বরং যারা অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে এবং খুনিদের ভাড়া করেছে, তাদেরও খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কবর জিয়ারতের সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।