ফুটবল পাগল দেশ মেক্সিকোয় সাম্প্রতিক এক জয়ের আনন্দ উৎসব বড় ধরনের ট্র্যাজেডিতে রূপ নিয়েছে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে জাতীয় দলের স্মরণীয় জয়ের পর মেক্সিকো সিটির রাজপথে নেমে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কগুলোতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, জয়ের খুশিতে রাস্তায় নেমে আসা মানুষের ঢল সামাল দেওয়া রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্রায় ১০ লক্ষাধিক সমর্থক শহরের প্রাণকেন্দ্রে সমবেত হওয়ায় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে ভিড়ের চাপে শ্বাসরোধ হয়ে এবং পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
মেক্সিকো সিটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, উৎসবের আমেজ মুহূর্তের মধ্যেই শোকের ছায়ায় ঢেকে যায়। শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে মানুষের এমন চাপ তৈরি হয় যে, নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী কর্মীরা ঠিকমতো পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানও ব্যাহত হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেক্সিকোর ফুটবল সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং যেকোনো জয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে আসে, তা অনেক সময় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। এবারের ঘটনাটি সেই ঝুঁকির এক করুণ দৃষ্টান্ত।
ঘটনার পর মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল জনসমাগম সামাল দেওয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। শহরের মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উৎসবের নামে এমন বিশৃঙ্খলা রোধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ফুটবলপ্রেমী মানুষের আবেগের সামনে এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনও এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। উৎসবের এই বিয়োগান্তক পরিণতি মেক্সিকোর ক্রীড়া ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
রিপোর্টার নাম: 





















