Hi

০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করলেন যোগী আদিত্যনাথ, তুললেন হিন্দু গ্রাম হস্তান্তরের অভিযোগ

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের জন্য সরাসরি কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ে দেশভাগ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী বা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতৃত্ব থাকলে ভারত কখনোই খণ্ডিত হতো না। তাঁর মতে, ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস নেতাদের ‘কাপুরুষোচিত’ সিদ্ধান্তের কারণেই দেশভাগ এবং ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

সীমানা নির্ধারণের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান এমন অনেক অঞ্চল পেয়েছিল যা তাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সিন্ধু ছিল হিন্দু ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা এবং পাঞ্জাব ছিল পাঞ্জাবি-প্রধান অঞ্চল। তাঁর দাবি, এসব এলাকা জোরপূর্বক পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাতে বাংলার সব হিন্দু গ্রামও জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা কংগ্রেসের এক ‘লজ্জাজনক’ সিদ্ধান্ত ছিল।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি নিয়েও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাংক হারানোর ভয়ে কংগ্রেস এসব ঘটনার বিষয়ে বরাবরই নীরব থেকেছে। বিশেষ করে দলিত হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে দলটি কখনোই গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে যোগী বলেন, দেশটির বিপুল সম্পদই বিদেশি আক্রমণকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। তাঁর মতে, জাতি, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন ভারতকে দুর্বল করেছে, যার ফলে দেশটি দীর্ঘ সময় পরাধীন ছিল। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, ১৬ ও ১৭ শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ছিল প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ।

দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যোগী আদিত্যনাথের ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ ও মাওবাদের মতো চরমপন্থার পেছনেও দেশভাগের ভুল সিদ্ধান্তের দায় রয়েছে। তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশভাগকে ‘মানবতার অন্ধকারতম অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া দেশভাগের পেছনের কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন নীরবতা পালনের জন্যও তিনি কংগ্রেসের সমালোচনা করেন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন যোগী। তিনি বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সিএএ-তে কোনো মুসলিম বা নির্দিষ্ট দলের সমর্থকদের জমি কেড়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই, তবুও আইনটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে যোগী দাবি করেন, তৎকালীন পাকিস্তান এমন কিছু অঞ্চলও পেয়েছিল, যেগুলো তারা প্রত্যাশা করেনি।

একইসঙ্গে ১৯৪৭ সালের আগে দেশভাগের পেছনে থাকা কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীরবতা পালনেরও সমালোচনা করেন তিনি।

দেশভাগের সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনও ভারতকে বহন করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয়

বরগুনায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ কিশোরী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করলেন যোগী আদিত্যনাথ, তুললেন হিন্দু গ্রাম হস্তান্তরের অভিযোগ

আপডেট : ১২:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের জন্য সরাসরি কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ে দেশভাগ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী বা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতৃত্ব থাকলে ভারত কখনোই খণ্ডিত হতো না। তাঁর মতে, ক্ষমতার লোভে কংগ্রেস নেতাদের ‘কাপুরুষোচিত’ সিদ্ধান্তের কারণেই দেশভাগ এবং ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

সীমানা নির্ধারণের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান এমন অনেক অঞ্চল পেয়েছিল যা তাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সিন্ধু ছিল হিন্দু ও সিন্ধি-অধ্যুষিত এলাকা এবং পাঞ্জাব ছিল পাঞ্জাবি-প্রধান অঞ্চল। তাঁর দাবি, এসব এলাকা জোরপূর্বক পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাতে বাংলার সব হিন্দু গ্রামও জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা কংগ্রেসের এক ‘লজ্জাজনক’ সিদ্ধান্ত ছিল।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি নিয়েও কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাংক হারানোর ভয়ে কংগ্রেস এসব ঘটনার বিষয়ে বরাবরই নীরব থেকেছে। বিশেষ করে দলিত হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে দলটি কখনোই গুরুত্ব দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে যোগী বলেন, দেশটির বিপুল সম্পদই বিদেশি আক্রমণকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। তাঁর মতে, জাতি, অঞ্চল ও ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন ভারতকে দুর্বল করেছে, যার ফলে দেশটি দীর্ঘ সময় পরাধীন ছিল। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, ১৬ ও ১৭ শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ছিল প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ।

দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যোগী আদিত্যনাথের ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ ও মাওবাদের মতো চরমপন্থার পেছনেও দেশভাগের ভুল সিদ্ধান্তের দায় রয়েছে। তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশভাগকে ‘মানবতার অন্ধকারতম অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া দেশভাগের পেছনের কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন নীরবতা পালনের জন্যও তিনি কংগ্রেসের সমালোচনা করেন।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন যোগী। তিনি বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সিএএ-তে কোনো মুসলিম বা নির্দিষ্ট দলের সমর্থকদের জমি কেড়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই, তবুও আইনটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে যোগী দাবি করেন, তৎকালীন পাকিস্তান এমন কিছু অঞ্চলও পেয়েছিল, যেগুলো তারা প্রত্যাশা করেনি।

একইসঙ্গে ১৯৪৭ সালের আগে দেশভাগের পেছনে থাকা কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীরবতা পালনেরও সমালোচনা করেন তিনি।

দেশভাগের সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনও ভারতকে বহন করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।