Hi

১২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারাল টাইগাররা

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ দল তাদের টেস্ট ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করল। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্টে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ, তবে বিদেশের মাটিতে এমন দাপুটে জয় আগে কখনো আসেনি। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে এসে একদিনের বেশি সময় হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করল সফরকারীরা।

ম্যাচের চতুর্থ দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ইনিংস হার এড়ানো। ক্যামেরন গ্রিন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের। গ্রিনের ১০৪ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সান্ত্বনা হয়েই রইল। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি।

চতুর্থ দিনের সকালে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মিরাজ ৬৬ রান খরচায় ৫টি উইকেট তুলে নেন, যা টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার। ইনিংসের ৬০তম ওভারে তার বাঁক খাওয়া বলটি ছিল দেখার মতো। এরপর ৬৬, ৭৪ ও ৯৬তম ওভারে তিনি যথাক্রমে বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে সাজঘরে ফেরান। লাঞ্চ বিরতির আগে মিরাজ নিজের বোলিং নিয়ে বলেন, পিচের ফুটমার্কস কাজে লাগিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

লাঞ্চের আগে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ২৪৩ রান সংগ্রহ করে ১৫ রানের লিড নিয়েছিল। তবে লাঞ্চের পর মাত্র ১১.১ ওভারের মধ্যেই বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন; দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি একাই নিয়েছেন ৯টি উইকেট। গ্রিনের উইকেটটিও তার ঝুলিতেই জমা হয়। অস্ট্রেলিয়ার লেজটা গুটিয়ে দিতে মিরাজ ও হাসানের জুটি ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারায়। জস হ্যাজলউডের বলে তিনি বোল্ড হয়ে ফিরে যান। তবে এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কোনো বিপদ হতে দেননি। সাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুমিনুলের বাউন্ডারিতে যখন জয় এল, তখন ডারউইনের গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লাসে ডারউইন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। এমনকি স্টেডিয়ামের প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জটিও ছিল সম্পূর্ণ খালি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, তৃতীয় দিনেই অস্ট্রেলিয়ার শোচনীয় অবস্থা দেখে দর্শকরা চতুর্থ দিনের টিকিট কাটার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। লাউঞ্জের এক কর্মী জানান, টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়াবে না ধরে নিয়েই টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল। মাঠের লড়াইটা চার দিন চললেও ডারউইনের স্থানীয় মানুষ তৃতীয় দিনেই পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটারদের আবেগঘন আলিঙ্গন আর প্রেসবক্সের স্তব্ধতা—সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্ট দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতিহাস গড়ার এই দিনে বাংলাদেশ প্রমাণ করল যে, সঠিক পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে যেকোনো কন্ডিশনে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।

প্রথমবার যখন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে ইনিংস হার এড়াল।

ডারউইন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়াতেই ২৩ বছর বছর পর টেস্ট খেলতে এসে একদিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে গেছে ৯ উইকেটে।

সব মিলিয়ে ৬৬ রান দিয়ে টেস্টে ১৫তম বারের মতো ৫ উইকেট।

দুবার ফাটিয়ে হাততালি দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অল্পসংখ্যক সমর্থক।

বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে অমন একটা সেঞ্চুরির জন্য বাহবা তো তিনি পেতেই পারেন।

তবে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল আজ যে ইতিহাস লিখল, ওই দুটি হাততালি সেখানে বড় জোর পাদটীকা হয়ে থাকতে পারে।

ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে বিজয়ীরা, পরাজিতদের নাম আসে প্রসঙ্গক্রমে।

তৃতীয় দিন শেষ বেলায় শুরু হয় উপসংহার লেখা, যেটি ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য ভাষায় বাংলাদেশ লিখে শেষ করেছে আজ।

গ্রিন সেঞ্চুরি করেছেন, কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা শুধু মাঠে নামা আর ওঠার আনুষ্ঠানিকতাই সারলেন যেন।

ব্যাটের কানায় বল ছুঁইয়ে কট বিহাইন্ড ক্যারি।

লাঞ্চ বিরতিতে মিরাজ সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ও ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানকে নিজের বোলিং নিয়ে বলেছেন, ‘সহজভাবে সবকিছু করতে চেয়েছি।

অফ স্টাম্পের বাইরে (পিচে) প্রচুর ফুটমার্কস আছে, সেখানে বল ফেলার চেষ্টা করেছি।

অবশ্য সেঞ্চুরি করা গ্রিনের উইকেটটা নিয়েছেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া পেসার হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের ৪২৬ থেকে ৬৭ রান দূরে থেকে দিনের খেলা শুরু, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৬ উইকেট।

কিন্তু লাঞ্চের আগে প্রথম সেশনে ৩১ ওভার ব্যাটিং করেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট এবং তিনটিই নেন মিরাজ।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য তাঁর এই ঘুর্ণি তান্ডবের মধ্যেই প্রথম সেশনে ৮২ রান করে ইনিংস হার এড়ানো নিশ্চিত করে।

লাঞ্চের পর ১১.১ ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গ্রিনসহ সেই ব্যাটসম্যানও।

তবে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম আর তিনে নামা অভিজ্ঞ মুমিনুল হক মিলে এরপর ইতিহাসের বাকিটা লিখেই মাঠ ছেড়েছেন বিজয়ের উৎসবে ভাসতে ভাসতে।

ওয়েবস্টারকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে মারা বাউন্ডারিতে জয় সূচক রানটা করেছেন মুমিনুলই।

ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটাররা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভাসছেন।

ওদিকে ড্রেসিংরুম থেকে প্রেসবক্স— অস্ট্রলিয়ান শিবির তখন পুরোপুরি স্তব্ধ।

ইতিহাসের পাতায় তাঁরা থাকবেন কী করে!

জনপ্রিয়

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ায় ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল উত্তর সুমাত্রা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারাল টাইগাররা

আপডেট : ১১:৪২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আজ এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ দল তাদের টেস্ট ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করল। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্টে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ, তবে বিদেশের মাটিতে এমন দাপুটে জয় আগে কখনো আসেনি। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে এসে একদিনের বেশি সময় হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করল সফরকারীরা।

ম্যাচের চতুর্থ দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল ইনিংস হার এড়ানো। ক্যামেরন গ্রিন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের। গ্রিনের ১০৪ রানের ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য সান্ত্বনা হয়েই রইল। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি।

চতুর্থ দিনের সকালে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মিরাজ ৬৬ রান খরচায় ৫টি উইকেট তুলে নেন, যা টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার। ইনিংসের ৬০তম ওভারে তার বাঁক খাওয়া বলটি ছিল দেখার মতো। এরপর ৬৬, ৭৪ ও ৯৬তম ওভারে তিনি যথাক্রমে বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে সাজঘরে ফেরান। লাঞ্চ বিরতির আগে মিরাজ নিজের বোলিং নিয়ে বলেন, পিচের ফুটমার্কস কাজে লাগিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

লাঞ্চের আগে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ২৪৩ রান সংগ্রহ করে ১৫ রানের লিড নিয়েছিল। তবে লাঞ্চের পর মাত্র ১১.১ ওভারের মধ্যেই বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে তারা ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন; দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি একাই নিয়েছেন ৯টি উইকেট। গ্রিনের উইকেটটিও তার ঝুলিতেই জমা হয়। অস্ট্রেলিয়ার লেজটা গুটিয়ে দিতে মিরাজ ও হাসানের জুটি ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

৫৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারায়। জস হ্যাজলউডের বলে তিনি বোল্ড হয়ে ফিরে যান। তবে এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কোনো বিপদ হতে দেননি। সাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুমিনুলের বাউন্ডারিতে যখন জয় এল, তখন ডারউইনের গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লাসে ডারউইন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। এমনকি স্টেডিয়ামের প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জটিও ছিল সম্পূর্ণ খালি। স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, তৃতীয় দিনেই অস্ট্রেলিয়ার শোচনীয় অবস্থা দেখে দর্শকরা চতুর্থ দিনের টিকিট কাটার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। লাউঞ্জের এক কর্মী জানান, টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়াবে না ধরে নিয়েই টিকিট বিক্রি বন্ধ ছিল। মাঠের লড়াইটা চার দিন চললেও ডারউইনের স্থানীয় মানুষ তৃতীয় দিনেই পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটারদের আবেগঘন আলিঙ্গন আর প্রেসবক্সের স্তব্ধতা—সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্ট দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতিহাস গড়ার এই দিনে বাংলাদেশ প্রমাণ করল যে, সঠিক পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে যেকোনো কন্ডিশনে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।

প্রথমবার যখন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে ইনিংস হার এড়াল।

ডারউইন তো বটেই, অস্ট্রেলিয়াতেই ২৩ বছর বছর পর টেস্ট খেলতে এসে একদিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে গেছে ৯ উইকেটে।

সব মিলিয়ে ৬৬ রান দিয়ে টেস্টে ১৫তম বারের মতো ৫ উইকেট।

দুবার ফাটিয়ে হাততালি দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অল্পসংখ্যক সমর্থক।

বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে অমন একটা সেঞ্চুরির জন্য বাহবা তো তিনি পেতেই পারেন।

তবে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল আজ যে ইতিহাস লিখল, ওই দুটি হাততালি সেখানে বড় জোর পাদটীকা হয়ে থাকতে পারে।

ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে বিজয়ীরা, পরাজিতদের নাম আসে প্রসঙ্গক্রমে।

তৃতীয় দিন শেষ বেলায় শুরু হয় উপসংহার লেখা, যেটি ক্রিকেটের বর্ণাঢ্য ভাষায় বাংলাদেশ লিখে শেষ করেছে আজ।

গ্রিন সেঞ্চুরি করেছেন, কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা শুধু মাঠে নামা আর ওঠার আনুষ্ঠানিকতাই সারলেন যেন।

ব্যাটের কানায় বল ছুঁইয়ে কট বিহাইন্ড ক্যারি।

লাঞ্চ বিরতিতে মিরাজ সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ও ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানকে নিজের বোলিং নিয়ে বলেছেন, ‘সহজভাবে সবকিছু করতে চেয়েছি।

অফ স্টাম্পের বাইরে (পিচে) প্রচুর ফুটমার্কস আছে, সেখানে বল ফেলার চেষ্টা করেছি।

অবশ্য সেঞ্চুরি করা গ্রিনের উইকেটটা নিয়েছেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া পেসার হাসান মাহমুদ।

বাংলাদেশের ৪২৬ থেকে ৬৭ রান দূরে থেকে দিনের খেলা শুরু, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৬ উইকেট।

কিন্তু লাঞ্চের আগে প্রথম সেশনে ৩১ ওভার ব্যাটিং করেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট এবং তিনটিই নেন মিরাজ।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য তাঁর এই ঘুর্ণি তান্ডবের মধ্যেই প্রথম সেশনে ৮২ রান করে ইনিংস হার এড়ানো নিশ্চিত করে।

লাঞ্চের পর ১১.১ ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গ্রিনসহ সেই ব্যাটসম্যানও।

তবে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম আর তিনে নামা অভিজ্ঞ মুমিনুল হক মিলে এরপর ইতিহাসের বাকিটা লিখেই মাঠ ছেড়েছেন বিজয়ের উৎসবে ভাসতে ভাসতে।

ওয়েবস্টারকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে মারা বাউন্ডারিতে জয় সূচক রানটা করেছেন মুমিনুলই।

ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটাররা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভাসছেন।

ওদিকে ড্রেসিংরুম থেকে প্রেসবক্স— অস্ট্রলিয়ান শিবির তখন পুরোপুরি স্তব্ধ।

ইতিহাসের পাতায় তাঁরা থাকবেন কী করে!