Hi

০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় মাদরাসা থেকে নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার: নেপথ্যে ছিল পড়াশোনার চাপ

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১২:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে

মাগুরায় মাদরাসার হেফজ বিভাগ থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দুই দিনের মাথায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। বুধবার (১ জুলাই) সকালে মাগুরা পুলিশ লাইন্স এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে কিশোরীটিকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে মাগুরা সদর উপজেলার শলুয়া গ্রামের মারকাযুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসার প্রাঙ্গণ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে সিসিআইসি। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবহার করে পুলিশ ওই কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি জানায়, মাদরাসার কঠোর নিয়ম-কানুন এবং হেফজ বিভাগের পড়াশোনার চাপের কারণে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। পরিবারকে একাধিকবার নিজের অনিচ্ছার কথা জানালেও তাতে কোনো সাড়া না মেলায় অভিমানে সে কাউকে কিছু না জানিয়েই মাদরাসা ত্যাগ করে। মাদরাসা থেকে বেরিয়ে সে পুলিশ লাইন্স এলাকায় সেলিনা বেগম নামের এক নারীর শরণাপন্ন হয়। নিজেকে এতিম পরিচয় দিয়ে সে ওই নারীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে মানবিক কারণে তিনি তাকে নিজ বাসায় জায়গা দেন। পরবর্তীতে এলাকায় নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে সেলিনা বেগমের স্বামী মো. মফিজুর রহমান বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করেন। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার কার্যক্রমের সময় মাদরাসার প্রিন্সিপাল ফসিউর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) খায়েরুল হাসান বলেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা জরুরি। সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে যে কোনো শিশু বা নারীকে নিরাপদ উদ্ধার করা সহজতর হয়। এই সফল অভিযানের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

২০২৬ বিশ্বকাপ: স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্নাইপাররা আসলে কী করেন?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মাগুরায় মাদরাসা থেকে নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার: নেপথ্যে ছিল পড়াশোনার চাপ

আপডেট : ১২:৪৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মাগুরায় মাদরাসার হেফজ বিভাগ থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দুই দিনের মাথায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। বুধবার (১ জুলাই) সকালে মাগুরা পুলিশ লাইন্স এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে কিশোরীটিকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে মাগুরা সদর উপজেলার শলুয়া গ্রামের মারকাযুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মহিলা মাদরাসার প্রাঙ্গণ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় ওই ছাত্রী। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তে নামে সিসিআইসি। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবহার করে পুলিশ ওই কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীটি জানায়, মাদরাসার কঠোর নিয়ম-কানুন এবং হেফজ বিভাগের পড়াশোনার চাপের কারণে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। পরিবারকে একাধিকবার নিজের অনিচ্ছার কথা জানালেও তাতে কোনো সাড়া না মেলায় অভিমানে সে কাউকে কিছু না জানিয়েই মাদরাসা ত্যাগ করে। মাদরাসা থেকে বেরিয়ে সে পুলিশ লাইন্স এলাকায় সেলিনা বেগম নামের এক নারীর শরণাপন্ন হয়। নিজেকে এতিম পরিচয় দিয়ে সে ওই নারীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে মানবিক কারণে তিনি তাকে নিজ বাসায় জায়গা দেন। পরবর্তীতে এলাকায় নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে সেলিনা বেগমের স্বামী মো. মফিজুর রহমান বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অবহিত করেন। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার কার্যক্রমের সময় মাদরাসার প্রিন্সিপাল ফসিউর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) খায়েরুল হাসান বলেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা জরুরি। সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে যে কোনো শিশু বা নারীকে নিরাপদ উদ্ধার করা সহজতর হয়। এই সফল অভিযানের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।