Hi

১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশু মুসার দুই বছর পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশু মুসা দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক লড়াইয়ের পর অবশেষে হাসতে শিখেছে। তবে তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ঘটনার পর টানা তিন মাস তার চোখ বন্ধ ছিল এবং প্রায় নয় মাস সে কোনো কথা বলতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ট্রমা ও শারীরিক যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে দেশ ও দেশের বাইরে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। মুসার পরিবার ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের ভেতরে এখনো রয়ে গেছে গুলির কিছু অংশ, যা অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘটনার দিন কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করলে আজও শিউরে ওঠেন শিশুটির অভিভাবকরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হঠাৎ করেই একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় ছোট্ট মুসার মাথায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করেন। দীর্ঘ সময় আইসিইউতে কাটানোর পর সে যখন কোমা থেকে ফিরে আসে, তখন তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথার আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে তার মোটর স্কিল বা শারীরিক নড়াচড়া এবং বাকশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিন মাস পর্যন্ত সে চোখ খুলে তাকাতে পারেনি এবং দীর্ঘ নয় মাস তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হয়নি।

দীর্ঘ এই দুই বছরের যাত্রায় মুসার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটলেও তার পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন এখনো অনেক দূরের পথ। বর্তমানে সে হাসতে পারলেও নিজে নিজে হাঁটতে পারে না এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও রয়েছে দীর্ঘ জটিলতা। নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে তার স্নায়বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে গরিব পরিবারের পক্ষে এই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা মহেবার সহযোগিতা পাওয়া গেলেও মুসার ভবিষ্যৎ সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আহত শিশুদের পুনর্বাসন এবং তাদের সুচিকিৎসার বিষয়টি এখনো জাতীয় স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মুসার মতো যেসব শিশু ও সাধারণ মানুষ এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো শারীরিক ও মানসিক ট্রমা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সমাজ সচেতনমহল ও মানবাধিকারকর্মীরা বারবার সরকারের পক্ষ থেকে এসব ভুক্তভোগী পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিশু মুসার আজকের এই হাসি কেবল তার ব্যক্তিগত বেঁচে থাকার লড়াইয়ের জয় নয়, এটি জুলাই অভ্যুত্থানের এক নির্মম স্মৃতির পাশাপাশি অদম্য টিকে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হতে রাজি হয়েছেন আন্দ্রেয়া পিরলো

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই অভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশু মুসার দুই বছর পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

আপডেট : ১০:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশু মুসা দীর্ঘ চিকিৎসা ও শারীরিক লড়াইয়ের পর অবশেষে হাসতে শিখেছে। তবে তার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না। ঘটনার পর টানা তিন মাস তার চোখ বন্ধ ছিল এবং প্রায় নয় মাস সে কোনো কথা বলতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ট্রমা ও শারীরিক যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে দেশ ও দেশের বাইরে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। মুসার পরিবার ও চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের ভেতরে এখনো রয়ে গেছে গুলির কিছু অংশ, যা অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘটনার দিন কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করলে আজও শিউরে ওঠেন শিশুটির অভিভাবকরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হঠাৎ করেই একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় ছোট্ট মুসার মাথায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জীবন বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করেন। দীর্ঘ সময় আইসিইউতে কাটানোর পর সে যখন কোমা থেকে ফিরে আসে, তখন তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথার আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে তার মোটর স্কিল বা শারীরিক নড়াচড়া এবং বাকশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তিন মাস পর্যন্ত সে চোখ খুলে তাকাতে পারেনি এবং দীর্ঘ নয় মাস তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হয়নি।

দীর্ঘ এই দুই বছরের যাত্রায় মুসার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটলেও তার পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন এখনো অনেক দূরের পথ। বর্তমানে সে হাসতে পারলেও নিজে নিজে হাঁটতে পারে না এবং কথা বলার ক্ষেত্রেও রয়েছে দীর্ঘ জটিলতা। নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে তার স্নায়বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে গরিব পরিবারের পক্ষে এই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা মহেবার সহযোগিতা পাওয়া গেলেও মুসার ভবিষ্যৎ সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আহত শিশুদের পুনর্বাসন এবং তাদের সুচিকিৎসার বিষয়টি এখনো জাতীয় স্বাস্থ্যখাতের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মুসার মতো যেসব শিশু ও সাধারণ মানুষ এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো শারীরিক ও মানসিক ট্রমা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সমাজ সচেতনমহল ও মানবাধিকারকর্মীরা বারবার সরকারের পক্ষ থেকে এসব ভুক্তভোগী পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসন ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন। শিশু মুসার আজকের এই হাসি কেবল তার ব্যক্তিগত বেঁচে থাকার লড়াইয়ের জয় নয়, এটি জুলাই অভ্যুত্থানের এক নির্মম স্মৃতির পাশাপাশি অদম্য টিকে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে।