Hi

১০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনি জটিলতায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল মর্গে পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার মারপ্যাঁচে পড়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর বা মর্গে পড়ে রয়েছে প্রবীর মণ্ডল নামের এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ। ২০২১ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় এই অচলাবস্থা, যা আজও কাটেনি। বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিহতের স্বজনরা বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেনি, যা এক মানবিক ও আইনি জটিলতার নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে নানা অসুস্থতা নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন প্রবীর মণ্ডল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি ভারতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া, পাসপোর্টের বৈধতা যাচাই, এবং ময়নাতদন্ত ও কূটনৈতিক অনুমোদনের নানা জটিলতার কারণে তা আটকে যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে হিমঘরে মরদেহ সংরক্ষণের ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালের মর্গের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সাধারণত বিদেশি কোনো নাগরিকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ হস্তক্ষেপে দ্রুত মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। তবে প্রবীর মণ্ডলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি এবং উত্তরাধিকারী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে একটি মরদেহ বছরের পর বছর মর্গে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর অথবা স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় মর্যাদায় সৎকারের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন এবং ঢাকাস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এই দীর্ঘমেডিক্যাল ও আইনি জট খুলে যাবে, যার মাধ্যমে প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ যথাযথ সম্মান ও নিয়মের সঙ্গে তার শেষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

জনপ্রিয়

কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ দিতেই ইরানে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আইনি জটিলতায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল মর্গে পড়ে আছে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ

আপডেট : ০৮:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার মারপ্যাঁচে পড়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর বা মর্গে পড়ে রয়েছে প্রবীর মণ্ডল নামের এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ। ২০২১ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় এই অচলাবস্থা, যা আজও কাটেনি। বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিহতের স্বজনরা বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেনি, যা এক মানবিক ও আইনি জটিলতার নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে নানা অসুস্থতা নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন প্রবীর মণ্ডল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি ভারতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া, পাসপোর্টের বৈধতা যাচাই, এবং ময়নাতদন্ত ও কূটনৈতিক অনুমোদনের নানা জটিলতার কারণে তা আটকে যায়।

দীর্ঘ সময় ধরে হিমঘরে মরদেহ সংরক্ষণের ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালের মর্গের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সাধারণত বিদেশি কোনো নাগরিকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ হস্তক্ষেপে দ্রুত মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে। তবে প্রবীর মণ্ডলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি এবং উত্তরাধিকারী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে একটি মরদেহ বছরের পর বছর মর্গে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর অথবা স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় মর্যাদায় সৎকারের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন এবং ঢাকাস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এই দীর্ঘমেডিক্যাল ও আইনি জট খুলে যাবে, যার মাধ্যমে প্রবীর মণ্ডলের মরদেহ যথাযথ সম্মান ও নিয়মের সঙ্গে তার শেষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।