Hi

০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনিজুয়েলায় আফটারশকের আতঙ্ক: সরকারি সাহায্য ছাড়াই ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজন উদ্ধারে মরিয়া সাধারণ মানুষ

গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই একাধিক আফটারশক জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আরাগুয়া, কারাবোবো এবং মিরাণ্ডা রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কায় হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে এবং অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকারি উদ্ধার অভিযান অপ্রতুল হওয়ায় বা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায়, স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে স্বজনদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

ভূমিকম্পের পর থেকে প্রতিটি আফটারশক নতুন করে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে, কখন আবার মাটি কেঁপে উঠবে সেই আশঙ্কায়। বহু মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন, তবে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে খোলা মাঠ বা রাস্তার ধারেই তাদের দিন কাটছে। সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলের ধীর গতি এবং অপ্রতুলতা মানুষের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং জনবল পাঠানো হয়নি, যার ফলে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয়রা রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কোনো রকম আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই তারা কোদাল, শাবল, এমনকি খালি হাতেই কংক্রিটের স্তূপ সরাচ্ছেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তারা দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন, যদি আরও একজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা যায় এই আশায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইঞ্চি তন্ন তন্ন করে খুঁজছেন, যেখানে সরকারি দল পৌঁছাতে পারেনি। এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ধার অভিযান এক দিকে যেমন মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তেমনই অন্যদিকে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কর্মীর অভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, ভেনিজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া জটিল আকার ধারণ করছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ ও আশ্রয় সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই বিপর্যয় ভেনিজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতিতে আরও বড় আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ বিশাল, যা পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় এবং প্রচুর সম্পদের প্রয়োজন হবে। ভূমিকম্পের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া লাখ লাখ মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্যোগ একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার মানুষের অসাধারণ resilience এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দিয়েছে।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অভিযোগ গঠনের পর সোহেলের মুখে নতুন নাম, ‘ডলার’ জড়িত থাকার দাবি

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ খন্দকার আইটি

ভেনিজুয়েলায় আফটারশকের আতঙ্ক: সরকারি সাহায্য ছাড়াই ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজন উদ্ধারে মরিয়া সাধারণ মানুষ

আপডেট : ০২:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই একাধিক আফটারশক জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আরাগুয়া, কারাবোবো এবং মিরাণ্ডা রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কায় হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে এবং অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকারি উদ্ধার অভিযান অপ্রতুল হওয়ায় বা পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায়, স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে স্বজনদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

ভূমিকম্পের পর থেকে প্রতিটি আফটারশক নতুন করে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে, কখন আবার মাটি কেঁপে উঠবে সেই আশঙ্কায়। বহু মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন, তবে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে খোলা মাঠ বা রাস্তার ধারেই তাদের দিন কাটছে। সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলের ধীর গতি এবং অপ্রতুলতা মানুষের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং জনবল পাঠানো হয়নি, যার ফলে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয়রা রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কোনো রকম আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই তারা কোদাল, শাবল, এমনকি খালি হাতেই কংক্রিটের স্তূপ সরাচ্ছেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তারা দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন, যদি আরও একজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা যায় এই আশায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই তাদের প্রিয়জনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি ইঞ্চি তন্ন তন্ন করে খুঁজছেন, যেখানে সরকারি দল পৌঁছাতে পারেনি। এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্ধার অভিযান এক দিকে যেমন মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তেমনই অন্যদিকে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং কর্মীর অভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, ভেনিজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া জটিল আকার ধারণ করছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ ও আশ্রয় সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এই বিপর্যয় ভেনিজুয়েলার ভঙ্গুর অর্থনীতিতে আরও বড় আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ বিশাল, যা পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় এবং প্রচুর সম্পদের প্রয়োজন হবে। ভূমিকম্পের ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া লাখ লাখ মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্যোগ একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার মানুষের অসাধারণ resilience এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দিয়েছে।