Hi

০২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর পথের বড় বাধা নরওয়ের লিসে ক্লাভেনেস

  • ডেস্ক সংবাদ
  • আপডেট : ০৯:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪ জন দেখেছে

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লিসে ক্লাভেনেস। ৪৫ বছর বয়সী এই নারী ফুটবল প্রশাসক ও পেশাদার আইনজীবী শুধু ইনফান্তিনোর নীতি ও কার্যপ্রণালীর প্রকাশ্য সমালোচকই নন, বরং তাঁর সরাসরি পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী এই পদে ইনফান্তিনোর চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের নির্বাচন আগামী বছর মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এমন এক সময়ে ক্লাভেনেসের নাম নতুন করে আলোচনায় আসায় ফিফার ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

পেশাগত জীবনে একসময় ফুটবলার হিসেবে নরওয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ৭৩টি ম্যাচ খেলা ক্লাভেনেস ২০২২ সালে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ফুটবলের বৈশ্বিক নীতি ও ফিফার ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন। বিশেষ করে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি শুরুতেই ফিফা নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। নরওয়ের ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা ও অসন্তোষ আজ দৃশ্যমান, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এই নরওয়েজিয়ান ফুটবল নেত্রীই। সাম্প্রতিক সময়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার তথাকথিত ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান, মার্কিন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ এবং ঐতিহ্যবাহী ফিফা প্রতিযোগিতাসমূহ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন সরাসরি ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।

যদিও ক্লাভেনেস নিজে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো ঘোষণা দেননি এবং বিষয়টিকে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষমতার লড়াই হিসেবেও দেখতে নারাজ, তবুও তাঁর অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এবার একজন নারী নেত্রীর সময় এসেছে। তবে ক্লাভেনেসের সামনে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের পথটি মোটেও সহজ নয়। ফিফার বৈশ্বিক কাঠামোর একটি বড় অংশে, বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে তাঁকে একজন অতি-উদারপন্থী ও পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হিসেবে দেখা হয়। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার নির্বাহী কমিটির নির্বাচনেও তিনি ২০২৩ সালে পরাস্ত হয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সেখানে জায়গা করে নিতে সক্ষম হন।

নরওয়ের সাবেক গোলরক্ষক ও ফুটবল বিশ্লেষক এরিক থর্স্তভেট মনে করেন, ইউরোপীয় অঞ্চলেই যেখানে ক্লাভেনেসের পক্ষে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো ফুটবল পরাশক্তিগুলোর সমর্থন আদায় করা তাঁর জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের মাঠের সাফল্য—যেমন দীর্ঘকাল পর বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের নাম লেখানো—এই নারী নেত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠব্য ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনো এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী হলেও, লিসে ক্লাভেনেস শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার গদিতে এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারে বর্তমান নেতৃত্ব।

জনপ্রিয়

হাওরাঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোর পথের বড় বাধা নরওয়ের লিসে ক্লাভেনেস

আপডেট : ০৯:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লিসে ক্লাভেনেস। ৪৫ বছর বয়সী এই নারী ফুটবল প্রশাসক ও পেশাদার আইনজীবী শুধু ইনফান্তিনোর নীতি ও কার্যপ্রণালীর প্রকাশ্য সমালোচকই নন, বরং তাঁর সরাসরি পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী এই পদে ইনফান্তিনোর চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের নির্বাচন আগামী বছর মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এমন এক সময়ে ক্লাভেনেসের নাম নতুন করে আলোচনায় আসায় ফিফার ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

পেশাগত জীবনে একসময় ফুটবলার হিসেবে নরওয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ৭৩টি ম্যাচ খেলা ক্লাভেনেস ২০২২ সালে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ফুটবলের বৈশ্বিক নীতি ও ফিফার ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন। বিশেষ করে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি শুরুতেই ফিফা নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। নরওয়ের ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা ও অসন্তোষ আজ দৃশ্যমান, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এই নরওয়েজিয়ান ফুটবল নেত্রীই। সাম্প্রতিক সময়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কের তালিকা দীর্ঘতর হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার তথাকথিত ‘শান্তি পুরস্কার’ প্রদান, মার্কিন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ এবং ঐতিহ্যবাহী ফিফা প্রতিযোগিতাসমূহ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন সরাসরি ফিফার এথিকস কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।

যদিও ক্লাভেনেস নিজে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো ঘোষণা দেননি এবং বিষয়টিকে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষমতার লড়াই হিসেবেও দেখতে নারাজ, তবুও তাঁর অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এবার একজন নারী নেত্রীর সময় এসেছে। তবে ক্লাভেনেসের সামনে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ের পথটি মোটেও সহজ নয়। ফিফার বৈশ্বিক কাঠামোর একটি বড় অংশে, বিশেষ করে আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে তাঁকে একজন অতি-উদারপন্থী ও পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হিসেবে দেখা হয়। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার নির্বাহী কমিটির নির্বাচনেও তিনি ২০২৩ সালে পরাস্ত হয়েছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৫ সালে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সেখানে জায়গা করে নিতে সক্ষম হন।

নরওয়ের সাবেক গোলরক্ষক ও ফুটবল বিশ্লেষক এরিক থর্স্তভেট মনে করেন, ইউরোপীয় অঞ্চলেই যেখানে ক্লাভেনেসের পক্ষে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো ফুটবল পরাশক্তিগুলোর সমর্থন আদায় করা তাঁর জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের মাঠের সাফল্য—যেমন দীর্ঘকাল পর বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের নাম লেখানো—এই নারী নেত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠব্য ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনো এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী হলেও, লিসে ক্লাভেনেস শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলে বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার গদিতে এক নজিরবিহীন ও রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারে বর্তমান নেতৃত্ব।