Hi

১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়ার জোরালো দাবি জামায়াতের

পলাতক ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কিংবা শৈথিল্যের আশ্রয় নিলে বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এই জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সক্রিয় সহযোগিতা গ্রহণেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে এবং সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে তাঁকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্বের বিপরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। ভারতের এই আচরণ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভারতের মাটিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং দিল্লি কর্তৃক তা অব্যাহতভাবে পশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত নেতারা মনে করেন, সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে কোনো দুর্বলতা থাকার কারণে পলায়নপর অবস্থায় বসে সাবেক এই সরকারপ্রধান দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের পাঁয়তারা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিগত সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দমনপীড়ন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার নানা তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ছাড়াও জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এসব অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তাই জনগণের দাবি অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরিশেষে, ফ্যাসিবাদী শক্তির যেকোনো ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশের আপামর জনসাধারণকে দলমত নির্বিশেষে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জনপ্রিয়

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় পানির ট্যাংক পরিষ্কারের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণ মিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়ার জোরালো দাবি জামায়াতের

আপডেট : ১০:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পলাতক ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা কিংবা শৈথিল্যের আশ্রয় নিলে বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে এই জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সক্রিয় সহযোগিতা গ্রহণেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে এবং সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে তাঁকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার প্রকারান্তরে বাংলাদেশের জনগণের বন্ধুত্বের বিপরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। ভারতের এই আচরণ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভারতের মাটিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র এবং দিল্লি কর্তৃক তা অব্যাহতভাবে পশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জামায়াত নেতারা মনে করেন, সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে কোনো দুর্বলতা থাকার কারণে পলায়নপর অবস্থায় বসে সাবেক এই সরকারপ্রধান দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের পাঁয়তারা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিগত সাড়ে ১৬ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দমনপীড়ন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার নানা তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ছাড়াও জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এসব অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। তাই জনগণের দাবি অনুযায়ী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরিশেষে, ফ্যাসিবাদী শক্তির যেকোনো ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা রুখে দিতে দেশের আপামর জনসাধারণকে দলমত নির্বিশেষে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।