Hi

০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের জৈন্তাপুরের মিনাটিলা: মেঘ-পাহাড়ের মিতালীতে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মিনাটিলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। ওপারে ভারতের সবুজ পাহাড়ের সারি আর এপারে শান্ত নদীর কোলঘেঁষা এই শূন্যরেখার এলাকাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই একে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ বা ‘ভাইরাল মাঠ’ নামে অভিহিত করছেন। শ্রাবণের এই সময়ে এখানকার মেঘ-পাহাড়ের মিতালী আর নদীপ্রবাহ এক অন্যরকম নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে, যা দেখতে ছুটির দিনে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মিনাটিলা। কাঁচা ও ইটের সোলিং রাস্তা পেরিয়ে ঝিঙ্গাবাড়ি গ্রাম পার হয়ে সেখানে পৌঁছানো যায়। গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে সামান্য এগোলেই দেখা মেলে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা বা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর। সীমান্ত পিলারের ওপারে ভারতের অংশে সারি সারি পাহাড় সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে প্রাকৃতিক এক নিরাপত্তা প্রাচীর গড়ে তুলেছে। তার পাশেই বয়ে চলেছে ছাগলখাউরি নদ, যা বাংলাদেশে প্রবেশ করে রাংপানি নদ নামে পরিচিত হয়েছে। এই নদীর স্বচ্ছ পানিতে স্থানীয় হাঁসের জলকেলি এবং বারকি নৌকায় শ্রমিকদের বালু বহনের দৃশ্য গ্রামীণ জনপদের চিরন্তন রূপ ফুটিয়ে তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও টিকটকের কল্যাণে এই অঞ্চলের মনোরম দৃশ্যগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় যুবকরা উদ্যোগী হয়ে মাঠের এক কোণে বসার জন্য বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী বেঞ্চ তৈরি করেছেন এবং গাছের চারা রোপণ করেছেন। তবে এত সৌন্দর্যের মাঝেও এই এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক শাহ আবদুল জব্বারের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দর্শনার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মিনাটিলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক বিধি-নিষেধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় জানিয়েছেন, জায়গাটি এখনও মূলধারার পর্যটন গন্তব্যের তালিকায় সেভাবে পরিচিত না হলেও অনেকেই স্বউদ্যোগে সেখানে বেড়াতে যান। সীমান্তবর্তী নিয়মনীতি বজায় রেখে এই অঞ্চলটিকে কীভাবে আরও পর্যটকবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

বিকেলের পড়ন্ত আলোয় মিনাটিলার চারপাশের রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা মেঘের দল যেন চারপাশের সবুজ প্রান্তরকে গ্রাস করতে চায়, আর রাংপানি নদের কুলকুল ধ্বনি পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার করা গেলে মিনাটিলা বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম পরিবর্তন করল সরকার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

সিলেটের জৈন্তাপুরের মিনাটিলা: মেঘ-পাহাড়ের মিতালীতে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

আপডেট : ১০:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা মিনাটিলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের নজর কাড়ছে। ওপারে ভারতের সবুজ পাহাড়ের সারি আর এপারে শান্ত নদীর কোলঘেঁষা এই শূন্যরেখার এলাকাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই একে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ বা ‘ভাইরাল মাঠ’ নামে অভিহিত করছেন। শ্রাবণের এই সময়ে এখানকার মেঘ-পাহাড়ের মিতালী আর নদীপ্রবাহ এক অন্যরকম নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করেছে, যা দেখতে ছুটির দিনে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪ নম্বর বাংলাবাজার এলাকা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মিনাটিলা। কাঁচা ও ইটের সোলিং রাস্তা পেরিয়ে ঝিঙ্গাবাড়ি গ্রাম পার হয়ে সেখানে পৌঁছানো যায়। গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে সামান্য এগোলেই দেখা মেলে আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা বা ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর। সীমান্ত পিলারের ওপারে ভারতের অংশে সারি সারি পাহাড় সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে প্রাকৃতিক এক নিরাপত্তা প্রাচীর গড়ে তুলেছে। তার পাশেই বয়ে চলেছে ছাগলখাউরি নদ, যা বাংলাদেশে প্রবেশ করে রাংপানি নদ নামে পরিচিত হয়েছে। এই নদীর স্বচ্ছ পানিতে স্থানীয় হাঁসের জলকেলি এবং বারকি নৌকায় শ্রমিকদের বালু বহনের দৃশ্য গ্রামীণ জনপদের চিরন্তন রূপ ফুটিয়ে তোলে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও টিকটকের কল্যাণে এই অঞ্চলের মনোরম দৃশ্যগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় যুবকরা উদ্যোগী হয়ে মাঠের এক কোণে বসার জন্য বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী বেঞ্চ তৈরি করেছেন এবং গাছের চারা রোপণ করেছেন। তবে এত সৌন্দর্যের মাঝেও এই এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক শাহ আবদুল জব্বারের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দর্শনার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মিনাটিলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক বিধি-নিষেধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় জানিয়েছেন, জায়গাটি এখনও মূলধারার পর্যটন গন্তব্যের তালিকায় সেভাবে পরিচিত না হলেও অনেকেই স্বউদ্যোগে সেখানে বেড়াতে যান। সীমান্তবর্তী নিয়মনীতি বজায় রেখে এই অঞ্চলটিকে কীভাবে আরও পর্যটকবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।

বিকেলের পড়ন্ত আলোয় মিনাটিলার চারপাশের রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা মেঘের দল যেন চারপাশের সবুজ প্রান্তরকে গ্রাস করতে চায়, আর রাংপানি নদের কুলকুল ধ্বনি পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কার করা গেলে মিনাটিলা বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।