Hi

০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই হাইপ: স্যান্ডউইচ দোকানের আইপিও-তেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছড়াছড়ি

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির জয়জয়কার সবখানে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার বা তথাকথিত ‘এআই হাইপ’ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ব্যবসায়িক নথিপত্রে এআই-এর নাম যোগ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি স্যান্ডউইচ চেইন শপ ‘জার্সি মাইকস’-এর আইপিও (Initial Public Offering) সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের অবাক করেছে।

সাধারণত একটি স্যান্ডউইচ বা ফাস্টফুড চেইন শপের ব্যবসায়িক মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুব একটা প্রয়োজনীয়তা নেই। তাদের মূল ভিত্তি হলো খাবারের মান, সার্ভিস এবং গ্রাহকের সন্তুষ্টি। কিন্তু জার্সি মাইকস তাদের আইপিও নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করেছে, যা প্রমাণ করে যে কোম্পানিগুলো এখন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য যেকোনো উপায়ে এআই শব্দটিকে ব্যবহার করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বাজারে শেয়ারের মূল্য বাড়াতে বা বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিকে আধুনিক হিসেবে তুলে ধরতে ‘এআই’ একটি অলংকারিক শব্দে পরিণত হয়েছে।

এই প্রবণতাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। যখন কোনো কোম্পানি তাদের মূল সেবার বাইরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রযুক্তির কথা বড় করে প্রচার করে, তখন তাকে ‘এআই বাবল’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুদবুদ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ডট-কম বাবল বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত বুদবুদের মতোই এটি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এআই শব্দটি যুক্ত করেই শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জার্সি মাইকসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান কেন এআই-এর ওপর জোর দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি কেবল একটি কৌশল মাত্র। বর্তমান সময়ে যে কোম্পানি এআই নিয়ে কাজ করছে না, তাদের সেকেলে মনে করা হচ্ছে। এই মানসিকতা থেকেই কোম্পানিগুলো অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেও এআই-এর নাম জড়িয়ে দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত এই ধরনের চমক দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে কোম্পানির প্রকৃত আয়, ব্যবসার মডেল এবং দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা যাচাই করা। প্রযুক্তি খাতের এই অতিরঞ্জিত প্রচারণার পেছনে প্রকৃত উদ্ভাবন কতটুকু রয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটক নিখোঁজ: গোসলে নেমে তলিয়ে গেলেন চিকিৎসক

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

এআই হাইপ: স্যান্ডউইচ দোকানের আইপিও-তেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছড়াছড়ি

আপডেট : ০২:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির জয়জয়কার সবখানে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার বা তথাকথিত ‘এআই হাইপ’ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ব্যবসায়িক নথিপত্রে এআই-এর নাম যোগ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি স্যান্ডউইচ চেইন শপ ‘জার্সি মাইকস’-এর আইপিও (Initial Public Offering) সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের অবাক করেছে।

সাধারণত একটি স্যান্ডউইচ বা ফাস্টফুড চেইন শপের ব্যবসায়িক মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খুব একটা প্রয়োজনীয়তা নেই। তাদের মূল ভিত্তি হলো খাবারের মান, সার্ভিস এবং গ্রাহকের সন্তুষ্টি। কিন্তু জার্সি মাইকস তাদের আইপিও নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করেছে, যা প্রমাণ করে যে কোম্পানিগুলো এখন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য যেকোনো উপায়ে এআই শব্দটিকে ব্যবহার করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বাজারে শেয়ারের মূল্য বাড়াতে বা বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিকে আধুনিক হিসেবে তুলে ধরতে ‘এআই’ একটি অলংকারিক শব্দে পরিণত হয়েছে।

এই প্রবণতাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। যখন কোনো কোম্পানি তাদের মূল সেবার বাইরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক প্রযুক্তির কথা বড় করে প্রচার করে, তখন তাকে ‘এআই বাবল’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুদবুদ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ডট-কম বাবল বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত বুদবুদের মতোই এটি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এআই শব্দটি যুক্ত করেই শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জার্সি মাইকসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান কেন এআই-এর ওপর জোর দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এটি কেবল একটি কৌশল মাত্র। বর্তমান সময়ে যে কোম্পানি এআই নিয়ে কাজ করছে না, তাদের সেকেলে মনে করা হচ্ছে। এই মানসিকতা থেকেই কোম্পানিগুলো অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রেও এআই-এর নাম জড়িয়ে দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত এই ধরনের চমক দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে কোম্পানির প্রকৃত আয়, ব্যবসার মডেল এবং দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা যাচাই করা। প্রযুক্তি খাতের এই অতিরঞ্জিত প্রচারণার পেছনে প্রকৃত উদ্ভাবন কতটুকু রয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।