বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে এফডিসি প্রাঙ্গণ। নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শিবা শানু। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচিত হলে ক্ষমতার দাপট নয়, বরং শিল্পীদের সমস্যা সমাধান এবং তাদের অধিকার আদায়ে তিনি নিরলস কাজ করে যাবেন। এফডিসিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সভাপতি হিসেবে তিনি কেবল দাপ্তরিক চেয়ারে বসে সময় পার করতে চান না, বরং সাধারণ শিল্পীদের পাশে বসে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনতে আগ্রহী।
শিবা শানু তার বক্তব্যে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন অসংগতির বিষয়গুলো কঠোরভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিচালকদের অবমূল্যায়ন এবং চলচ্চিত্রের বাইরের লোকজনকে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, চলচ্চিত্রের নিজস্ব পেশাজীবীরাই এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য এবং বাইরের লোকদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব জনবলকে দক্ষ ও মূল্যায়ন করা জরুরি।
এছাড়া, দেশি সিনেমায় বিদেশি কলাকুশলী নিয়োগের প্রবণতা নিয়েও তিনি তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। শিবা শানুর মতে, বাংলাদেশের অর্থ ও প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমায় বিদেশি কোরিওগ্রাফার বা ফাইট আর্টিস্টদের গুরুত্ব দেওয়া দেশীয় শিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশি কাউকে আনাও হয়, তবে দেশি শিল্পীদের মর্যাদা ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য রাখা যাবে না। দেশীয় চলচ্চিত্রের ভিত্তি মজবুত করতে হলে স্থানীয় কলাকুশলীদের সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি শিল্পী সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সমিতির অনুদান দিয়ে শিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়, বরং নীতিগত সংস্কার ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই চলচ্চিত্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার জয় মানে চলচ্চিত্র পরিবারের জয়। তিনি নির্বাচিত হলে শিল্পীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী নির্বাচনে তার এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টার নাম: 























