Hi

১০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ব্যর্থতা মন্ত্রণালয়ের, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পরও প্রশাসন ক্যাডার এবং শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিন ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের পার্থক্য হচ্ছে, ফল্ট অব দ্য এডুকেশন মিনিস্ট্রি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যোগদানের আগে চার থেকে পাঁচ মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এমন কোনো ওরিয়েন্টেশন বা বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। একই বিসিএস ক্যাডার হয়েও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ব্যবস্থার নেপথ্যে দায়ী কর্তৃপক্ষ নিজেই তার সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতার মতো গুরুদায়িত্বে যোগ দিতে হয়। অথচ এই কর্মকর্তারা মেধার ভিত্তিতেই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণের এই অভাবের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্য ক্যাডারের চেয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে হয় বা খাটো করে দেখা হয়।

শিক্ষকতায় আসার প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেকে পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে নিজের ইচ্ছায় বেছে নিতে চান না। অথচ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেই এই মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসছেন। সরকারি শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও ৩৮৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার গুণগত মানের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সবসময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেই। কিন্তু ডিগ্রি, অনার্স এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। তিনি বলেন, আমরা শুধু এসএসসি-এইচএসসি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকি। উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা নিজেরা পড়লেই যথেষ্ট নয়, বরং সেখানে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।

জনপ্রিয়

নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে জোট গড়ার পথে ইসরাইলি বিরোধী নেতারা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শিক্ষা ক্যাডার প্রশিক্ষণে ব্যর্থতা মন্ত্রণালয়ের, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ০৬:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, একই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার পরও প্রশাসন ক্যাডার এবং শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, অ্যাডমিন ক্যাডারের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারের পার্থক্য হচ্ছে, ফল্ট অব দ্য এডুকেশন মিনিস্ট্রি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যোগদানের আগে চার থেকে পাঁচ মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এমন কোনো ওরিয়েন্টেশন বা বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। একই বিসিএস ক্যাডার হয়েও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ব্যবস্থার নেপথ্যে দায়ী কর্তৃপক্ষ নিজেই তার সীমাবদ্ধতা বা ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে। অ্যাডমিনে চার-পাঁচ মাস ট্রেনিং দিয়ে তারপর আসছে।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই শিক্ষকতার মতো গুরুদায়িত্বে যোগ দিতে হয়। অথচ এই কর্মকর্তারা মেধার ভিত্তিতেই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণের এই অভাবের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্য ক্যাডারের চেয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে হয় বা খাটো করে দেখা হয়।

শিক্ষকতায় আসার প্রেক্ষাপট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেকে পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে নিজের ইচ্ছায় বেছে নিতে চান না। অথচ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেই এই মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসছেন। সরকারি শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সম্প্রতি ৬৫০ জন শিক্ষককে নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) আরও ৩৮৪ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার গুণগত মানের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সবসময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেই। কিন্তু ডিগ্রি, অনার্স এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। তিনি বলেন, আমরা শুধু এসএসসি-এইচএসসি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকি। উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা নিজেরা পড়লেই যথেষ্ট নয়, বরং সেখানে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ আমরা মনে করি, তারা নিজে পড়ে নিজে শিখবেই, সময় নষ্ট করবে না। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি আছে কি না, সেটা আমাদের দেখতে হবে।