Hi

১০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের এই ভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি দুই বছরের প্রভাব এবং পুরো কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করবে। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন, ভোটারদের সাম্প্রতিক মনোভাব, জনমত জরিপ এবং উভয় দলের প্রচার কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্ন—উভয় কক্ষেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনর্বহাল করার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি অর্থাৎ ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের হাতে। এই ফলই ঠিক করে দেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বাকি দুই বছরের মেয়াদে কতটা প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধা পাবেন।

দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক ৫০ শতাংশের কিছু ওপরে থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লিখিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি বর্তমান জনসমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৩৭ শতাংশে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের জনপ্রিয়তা কমলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থীরাও সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নির্বাচনী পরিসংখ্যানেও এই চিত্র স্পষ্ট। ১৯৩৪ সাল পরবর্তী মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোর উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতি নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৭টি করে আসন হারিয়েছে। বিগত ২৩টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বিচার করলে দেখা যায়, মাত্র তিনবার ক্ষমতাসীন দল নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে পেরেছিল।

বর্তমানে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন রয়েছে ২১৮টি, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ন্যূনতম সীমার একদম কাছাকাছি। ফলে আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাদের হাতে অতিরিক্ত কোনো সুরক্ষাবলয় নেই। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের তথ্য মতে, প্রতিনিধি পরিষদের মোট ১৮টি আসনে অত্যন্ত কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যার মধ্যে ১৪টি বর্তমানে রিপাবলিকান এবং ৪টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি থাকা এমন ৩৬টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আসনগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি লড়াই হতে যাওয়া আসনগুলো থেকে কয়েকটি নিজেদের পক্ষে আনতে পারলে প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বিরোধীদের জন্য সহজ হবে।

সিনেটে অবশ্য রিপাবলিকানদের অবস্থান অপেক্ষাকৃত সুসংহত। ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩টি, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ৪৫টি এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্য তাঁদের পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন। তবে এবারের ভোটে যে ৩৫টি সিনেট আসনে লড়াই হচ্ছে, তার মধ্যে ৭টিতে লড়াই হবে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ বিষয় হলো, এই ৭টি হাড্ডাহাড্ডি আসনের মধ্যে ৬টিই এখন রিপাবলিকানদের অধীনে।

সিনেটের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৫১টি আসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য অর্জনে ওহাইও, আলাস্কা, মিশিগান ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিজয়ী হওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসেও এবার ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিপরীতে লড়াই করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষক জেমস তালারিকো। তিনি জয়ী হলে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হবেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মনস্তত্ত্বে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানো ও জীবনযাত্রার খরচ সহনীয় পর্যায়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অর্থনীতিতেও আঘাত হেনেছে। সেখানে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মার্কিন বাজারগুলোতে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসা গত আগস্টের জনমত জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৬৩ শতাংশ মানুষ ইরান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে পরিচালিত এক জনমত জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ আলোচনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসন ইস্যুও সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা জনস্বাস্থ্য বিমার চড়া ব্যয় ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জটিলতাকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছেন। বিপরীতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর প্রশাসনিক অর্জনগুলোকে তুলে ধরছে রিপাবলিকান শিবির।

জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রচারণার আর্থিক তহবিলের শক্তিতে অনেকটাই এগিয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া হিসেব মতে, রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি এবং তাদের সমর্থিত সংগঠনগুলোর কাছে ৩২০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ জমা ছিল, যার বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের তহবিলে ছিল ২৩০ মিলিয়ন ডলারের কিছু কম। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত বিশেষ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘ম্যাগা ইনকরপোরেটেড’-এর হাতেও ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল রয়েছে, যা শেষ মুহূর্তের প্রচারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হলে ট্রাম্পের নতুন নীতি ও বিল পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। অপরদিকে রিপাবলিকানরা যদি প্রভাব বজায় রাখতে পারে, তবে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি সময়টি নিশ্চিন্তে কাটাবেন। তবে ভোটের পর পরই মার্কিন রাজনীতিতে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হবে, কারণ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন না।

জনপ্রিয়

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প

আপডেট : ০৮:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের এই ভোট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি দুই বছরের প্রভাব এবং পুরো কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ধারণ করবে। বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন, ভোটারদের সাম্প্রতিক মনোভাব, জনমত জরিপ এবং উভয় দলের প্রচার কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলাফল।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্ন—উভয় কক্ষেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনর্বহাল করার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি অর্থাৎ ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষেরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের হাতে। এই ফলই ঠিক করে দেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বাকি দুই বছরের মেয়াদে কতটা প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধা পাবেন।

দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক ৫০ শতাংশের কিছু ওপরে থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লিখিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি বর্তমান জনসমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৩৭ শতাংশে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধানের জনপ্রিয়তা কমলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের প্রার্থীরাও সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নির্বাচনী পরিসংখ্যানেও এই চিত্র স্পষ্ট। ১৯৩৪ সাল পরবর্তী মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোর উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতি নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৭টি করে আসন হারিয়েছে। বিগত ২৩টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বিচার করলে দেখা যায়, মাত্র তিনবার ক্ষমতাসীন দল নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে পেরেছিল।

বর্তমানে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন রয়েছে ২১৮টি, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ন্যূনতম সীমার একদম কাছাকাছি। ফলে আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাদের হাতে অতিরিক্ত কোনো সুরক্ষাবলয় নেই। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের তথ্য মতে, প্রতিনিধি পরিষদের মোট ১৮টি আসনে অত্যন্ত কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যার মধ্যে ১৪টি বর্তমানে রিপাবলিকান এবং ৪টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি থাকা এমন ৩৬টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আসনগুলোতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি লড়াই হতে যাওয়া আসনগুলো থেকে কয়েকটি নিজেদের পক্ষে আনতে পারলে প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বিরোধীদের জন্য সহজ হবে।

সিনেটে অবশ্য রিপাবলিকানদের অবস্থান অপেক্ষাকৃত সুসংহত। ১০০ আসনের উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩টি, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের রয়েছে ৪৫টি এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্য তাঁদের পক্ষে ভোট দিয়ে থাকেন। তবে এবারের ভোটে যে ৩৫টি সিনেট আসনে লড়াই হচ্ছে, তার মধ্যে ৭টিতে লড়াই হবে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ বিষয় হলো, এই ৭টি হাড্ডাহাড্ডি আসনের মধ্যে ৬টিই এখন রিপাবলিকানদের অধীনে।

সিনেটের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নিতে হলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৫১টি আসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য অর্জনে ওহাইও, আলাস্কা, মিশিগান ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিজয়ী হওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসেও এবার ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিপরীতে লড়াই করছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষক জেমস তালারিকো। তিনি জয়ী হলে ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হবেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মনস্তত্ত্বে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানো ও জীবনযাত্রার খরচ সহনীয় পর্যায়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাধারণ মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অর্থনীতিতেও আঘাত হেনেছে। সেখানে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মার্কিন বাজারগুলোতে পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসা গত আগস্টের জনমত জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৬৩ শতাংশ মানুষ ইরান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে পরিচালিত এক জনমত জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ আলোচনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসন ইস্যুও সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা জনস্বাস্থ্য বিমার চড়া ব্যয় ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জটিলতাকে সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছেন। বিপরীতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর প্রশাসনিক অর্জনগুলোকে তুলে ধরছে রিপাবলিকান শিবির।

জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রচারণার আর্থিক তহবিলের শক্তিতে অনেকটাই এগিয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া হিসেব মতে, রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি এবং তাদের সমর্থিত সংগঠনগুলোর কাছে ৩২০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ জমা ছিল, যার বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের তহবিলে ছিল ২৩০ মিলিয়ন ডলারের কিছু কম। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত বিশেষ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘ম্যাগা ইনকরপোরেটেড’-এর হাতেও ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল রয়েছে, যা শেষ মুহূর্তের প্রচারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হলে ট্রাম্পের নতুন নীতি ও বিল পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। অপরদিকে রিপাবলিকানরা যদি প্রভাব বজায় রাখতে পারে, তবে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি সময়টি নিশ্চিন্তে কাটাবেন। তবে ভোটের পর পরই মার্কিন রাজনীতিতে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে তোড়জোড় শুরু হবে, কারণ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন না।