Hi

০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডারে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছে

মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই মামলায় মোট ২৪ জন আসামি ছিলেন, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চার ভাইও রয়েছেন। এছাড়াও, সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

  • মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ এবং স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মজনু মিয়াকে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে, উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা এবং রাজা জোলার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক প্রক্রিয়া

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা এবং করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের এই রায়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন যে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাংলাদেশে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডারে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই মামলায় মোট ২৪ জন আসামি ছিলেন, যার মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চার ভাইও রয়েছেন। এছাড়াও, সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

  • মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ এবং স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মজনু মিয়াকে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে, উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা এবং রাজা জোলার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক প্রক্রিয়া

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা এবং করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের এই রায়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন যে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।