Hi

১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লং ড্রাইভ বাদ দিয়ে বিরোধী দলকে জনসেবায় আসার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিলাসবহুল লং ড্রাইভ ও ফটোসেশনের রাজনীতি পরিহার করে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে জনসেবায় এগিয়ে আসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, শুধু এলাকার নয়, সারা দেশে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সমস্ত জঞ্জাল সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একত্রে পরিষ্কার করা দরকার।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত মিরপুর ১০ নম্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই-এক দিন ভোরবেলা ঝাড়ু হাতে ফটোসেশন করলেই চলবে না। ফটোসেশনের রাজনীতি এবং জনসভার পথ ছেড়ে বিরোধী দলেরও জনসেবায় অংশ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে জনসভার নয়, বরং জনসেবার নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন। মিরপুরের এই ক্লিনিককে কেবল জ্বর পরীক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে মানুষ বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সর্বদা জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে বিশ্বাসী। বিনা ভোটে বা রাতের অন্ধকারে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন তারা দেখে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো ব্যর্থতা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন, যা অন্য দলগুলোর চেয়ে বিএনপির মূল পার্থক্য।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, অসংগঠিত রাজনৈতিক চক্রান্ত প্রত্যাখ্যান করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলের নেতাকর্মীরা সব সময় মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ডিএনসিসির ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে নগরবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষা, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ, শিশুস্বাস্থ্য, ইপিআই, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং ওষুধ দেওয়া হয়। সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন এতে মেডিসিনসহ অন্যান্য সার্বিক চিকিৎসায় সহযোগিতা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির ভাষণে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশ পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। জনগণের সহযোগিতা পাওয়ার কারণেই মিরপুর ১০ ও ১ নম্বরের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছিল বলেই মিরপুর ১০ ও ১ নম্বরের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করে নগরবাসীর চলাচলের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জনপ্রিয়

কাতারের এমএইচএম স্কুলে এইচএসসিতে ৯২.৭৭ শতাংশ সাফল্য

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

লং ড্রাইভ বাদ দিয়ে বিরোধী দলকে জনসেবায় আসার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট : ০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বিলাসবহুল লং ড্রাইভ ও ফটোসেশনের রাজনীতি পরিহার করে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে জনসেবায় এগিয়ে আসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, শুধু এলাকার নয়, সারা দেশে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া সমস্ত জঞ্জাল সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একত্রে পরিষ্কার করা দরকার।

শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত মিরপুর ১০ নম্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই-এক দিন ভোরবেলা ঝাড়ু হাতে ফটোসেশন করলেই চলবে না। ফটোসেশনের রাজনীতি এবং জনসভার পথ ছেড়ে বিরোধী দলেরও জনসেবায় অংশ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে জনসভার নয়, বরং জনসেবার নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন। মিরপুরের এই ক্লিনিককে কেবল জ্বর পরীক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে মানুষ বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সর্বদা জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার পরিচালনা করতে বিশ্বাসী। বিনা ভোটে বা রাতের অন্ধকারে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন তারা দেখে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো ব্যর্থতা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন, যা অন্য দলগুলোর চেয়ে বিএনপির মূল পার্থক্য।

মীর শাহে আলম আরও বলেন, অসংগঠিত রাজনৈতিক চক্রান্ত প্রত্যাখ্যান করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলের নেতাকর্মীরা সব সময় মানবসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ডিএনসিসির ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে নগরবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষা, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ, শিশুস্বাস্থ্য, ইপিআই, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা এবং ওষুধ দেওয়া হয়। সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন এতে মেডিসিনসহ অন্যান্য সার্বিক চিকিৎসায় সহযোগিতা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির ভাষণে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশ পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। জনগণের সহযোগিতা পাওয়ার কারণেই মিরপুর ১০ ও ১ নম্বরের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছিল বলেই মিরপুর ১০ ও ১ নম্বরের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করে নগরবাসীর চলাচলের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।