Hi

০৩:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: হুতিবিরোধী অভিযানে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ জন দেখেছে

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে তুরস্ক অংশ নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবে হুতিদের হামলার পর দেশ তিনটির রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র।

যৌথ চুক্তি ও তুরস্কের অবস্থান

আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তিটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। সৌদি আরবকে কী ধরনের কারিগরি ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া যায়, তা সামরিক কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। হাকান ফিদান উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বর্তমানে স্থলভাগে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি আরব তাদের সহায়তা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তার প্রতিরক্ষায় পাশে দাঁড়ানো এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। অন্য দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে তুরস্ক কোনো সেনা পাঠাবে না।

সহায়তার ধরন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ঠিক কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে সামরিক প্রতিনিধিদল কাজ করবে। একই সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে কী ধরনের অবদান রাখতে পারে, সেটিও তারা পর্যালোচনা করবে বলে জানান ফিদান। গত বুধবার রয়টার্সকে তুরস্কের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে আঙ্কারা। কর্মকর্তারা বলেছেন, তুর্কি পার্লামেন্ট এখনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না করায় এ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হবে। ফিদান জানিয়েছেন, পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এটি জমা দেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলে চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: হুতিবিরোধী অভিযানে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক

আপডেট : ১১:৩৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে তুরস্ক অংশ নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সৌদি আরবে হুতিদের হামলার পর দেশ তিনটির রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র।

যৌথ চুক্তি ও তুরস্কের অবস্থান

আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তিটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। সৌদি আরবকে কী ধরনের কারিগরি ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া যায়, তা সামরিক কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন। এর মধ্যে বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। হাকান ফিদান উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বর্তমানে স্থলভাগে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি আরব তাদের সহায়তা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে তার প্রতিরক্ষায় পাশে দাঁড়ানো এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। অন্য দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে তুরস্ক কোনো সেনা পাঠাবে না।

সহায়তার ধরন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ঠিক কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণে সামরিক প্রতিনিধিদল কাজ করবে। একই সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে কী ধরনের অবদান রাখতে পারে, সেটিও তারা পর্যালোচনা করবে বলে জানান ফিদান। গত বুধবার রয়টার্সকে তুরস্কের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি সহায়তা পাঠাচ্ছে আঙ্কারা। কর্মকর্তারা বলেছেন, তুর্কি পার্লামেন্ট এখনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না করায় এ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হবে। ফিদান জানিয়েছেন, পার্লামেন্টের অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এটি জমা দেওয়া হবে।