Hi

০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর সবুজ সংকেত দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পূর্বে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কৌশলগত ও কারিগরি সমস্যার সমাধান করে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষায় সফল হওয়ার পরই বায়রার পক্ষ থেকে ক্রিটিক্যালিটির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পথ প্রশস্ত হলো।

অনুমোদনের পর এখন চুল্লিতে খুবই কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর কার্যক্রম চলবে, যা মূলত ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হিসেবে পরিচিত। এ পর্যায়ে চুল্লির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুরো পরীক্ষা ও প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। সবকিছু যথাযথ থাকলে পর্যায়ক্রমে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

পরবর্তী ধাপগুলোতে চুল্লির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টারবাইন ও জেনারেটর চালুর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। তবে এর জন্য কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আলাদা পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে এবং ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রথম ইউনিট পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন উৎসের সংযোজন ঘটানোর পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতায়ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

জনপ্রিয়

রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি মিলল

আপডেট : ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরুর সবুজ সংকেত দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পূর্বে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কৌশলগত ও কারিগরি সমস্যার সমাধান করে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষায় সফল হওয়ার পরই বায়রার পক্ষ থেকে ক্রিটিক্যালিটির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পথ প্রশস্ত হলো।

অনুমোদনের পর এখন চুল্লিতে খুবই কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর কার্যক্রম চলবে, যা মূলত ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হিসেবে পরিচিত। এ পর্যায়ে চুল্লির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পুরো পরীক্ষা ও প্রস্তুতির প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। সবকিছু যথাযথ থাকলে পর্যায়ক্রমে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।

পরবর্তী ধাপগুলোতে চুল্লির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টারবাইন ও জেনারেটর চালুর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। তবে এর জন্য কেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আলাদা পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে এবং ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা করা হবে। সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রথম ইউনিট পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন উৎসের সংযোজন ঘটানোর পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতায়ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।