Hi

১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে সক্রিয় প্রশাসন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১১:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ জন দেখেছে

বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের সুযোগ নিয়ে অল্পবয়সী কিশোররা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় ৩৯টি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার পর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে বিশেষ জোর দিচ্ছে। পরিবার ও সমাজের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে অল্প বয়সেই সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। ফলে অপরাধে জড়িয়েও অনেকে দ্রুত আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।

এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাই, জমি দখল এবং ইভটিজিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল মহড়া এবং দামি মুঠোফোন প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা আইনের মারপ্যাঁচ থেকে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে, যা মূল অপরাধীদের জন্য কিশোরদের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে সহজে পার পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল সন্ত্রাসীরা কিশোরদের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অপরাধচক্র এসব গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনের ব্যবস্থা করা কিংবা কারাগারে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এসব পৃষ্ঠপোষক ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বগুড়া শহরজুড়ে অন্তত ১৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের নেতৃত্বে রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ব্যক্তি। বিশেষ করে জলেশ্বরীতলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সেউজগাড়ী রেল কলোনি, উপশহর, ফুলবাড়ী নদীর ঘাট ও মালতীনগর স্টাফ কোয়ার্টারের মতো এলাকাগুলোতে তাদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত সাড়ে পাঁচ বছরে বগুড়ায় ৫৩০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ৩৯টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২৩৯টির বেশি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হলেও গ্যাংগুলোর প্রভাব ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অতীতের কয়েকটি নৃশংস ঘটনা শহরবাসীর আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে শাকপালা পার্কে স্কুলশিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালে ফুলবাড়ী ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা এবং ২০২০ সালে জলেশ্বরীতলায় রশিদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায়ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। গত মে মাসে ব্যবসায়ী ফারান তানভীরের ওপর নিজ বাড়ির পার্কিংয়ে হামলাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল শাকপালা পার্কে সংঘর্ষের জেরে নৃশংসভাবে খুন করা হয় স্কুলশিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামকে। এর আগে ২০২৫ সালে কালীতলা মোড়ে দায়িত্বরত অবস্থায় ফুলবাড়ী ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান ও এএসআই আহম্মদ আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে গ্যাং সদস্যরা। এদিকে, চলতি মাসে দুটি মোটরসাইকেল শোডাউনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এসআরবি-১২ ও জেলা পুলিশ। গত আগস্টে শাজাহানপুরের শাবরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘জালাল গ্রুপ’-এর ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এছাড়া আউলিয়া, রাহাত এবং সিফাতের মতো গ্যাং লিডারদের র‍্যাব ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে বার্মিজ চাকু, চাপাতি ও বল্লমের মতো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছর বগুড়া মহানগরীর নূরানী মোড় এলাকা থেকে ধারালো চাকুসহ আউলিয়া (১৯) ও রাহাত (১৯) নামে দুই গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে ২০২৪ সালে গাবতলীর পীরগাছায় একটি পিকনিকের বাসে তল্লাশি চালিয়ে বার্মিজ চাকুসহ ৯ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাইয়ান আলম জানান, কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিউনিটি পুলিশের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কিশোর গ্যাং নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিংকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক এই সংকট উত্তরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ভাণ্ডারকে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের আগেই শনাক্ত করা সহজ হবে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

জনপ্রিয়

সীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতের কাছে তালিকা চেয়েছে

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে সক্রিয় প্রশাসন

আপডেট : ১১:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের সুযোগ নিয়ে অল্পবয়সী কিশোররা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় ৩৯টি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার পর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে বিশেষ জোর দিচ্ছে। পরিবার ও সমাজের নজরদারির ঘাটতির সুযোগে অল্প বয়সেই সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। ফলে অপরাধে জড়িয়েও অনেকে দ্রুত আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে।

এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, ছিনতাই, জমি দখল এবং ইভটিজিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে তারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল মহড়া এবং দামি মুঠোফোন প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা আইনের মারপ্যাঁচ থেকে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে, যা মূল অপরাধীদের জন্য কিশোরদের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনের ফাঁক গলে সহজে পার পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মূল সন্ত্রাসীরা কিশোরদের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অপরাধচক্র এসব গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনের ব্যবস্থা করা কিংবা কারাগারে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এসব পৃষ্ঠপোষক ভূমিকা রাখে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বগুড়া শহরজুড়ে অন্তত ১৫টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের নেতৃত্বে রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত ব্যক্তি। বিশেষ করে জলেশ্বরীতলা, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সেউজগাড়ী রেল কলোনি, উপশহর, ফুলবাড়ী নদীর ঘাট ও মালতীনগর স্টাফ কোয়ার্টারের মতো এলাকাগুলোতে তাদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত সাড়ে পাঁচ বছরে বগুড়ায় ৫৩০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই ৩৯টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২৩৯টির বেশি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হলেও গ্যাংগুলোর প্রভাব ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অতীতের কয়েকটি নৃশংস ঘটনা শহরবাসীর আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে শাকপালা পার্কে স্কুলশিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালে ফুলবাড়ী ফাঁড়ির দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা এবং ২০২০ সালে জলেশ্বরীতলায় রশিদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায়ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। গত মে মাসে ব্যবসায়ী ফারান তানভীরের ওপর নিজ বাড়ির পার্কিংয়ে হামলাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল শাকপালা পার্কে সংঘর্ষের জেরে নৃশংসভাবে খুন করা হয় স্কুলশিক্ষার্থী সামিউল সিয়ামকে। এর আগে ২০২৫ সালে কালীতলা মোড়ে দায়িত্বরত অবস্থায় ফুলবাড়ী ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান ও এএসআই আহম্মদ আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে গ্যাং সদস্যরা। এদিকে, চলতি মাসে দুটি মোটরসাইকেল শোডাউনের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এসআরবি-১২ ও জেলা পুলিশ। গত আগস্টে শাজাহানপুরের শাবরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘জালাল গ্রুপ’-এর ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এছাড়া আউলিয়া, রাহাত এবং সিফাতের মতো গ্যাং লিডারদের র‍্যাব ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে বার্মিজ চাকু, চাপাতি ও বল্লমের মতো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছর বগুড়া মহানগরীর নূরানী মোড় এলাকা থেকে ধারালো চাকুসহ আউলিয়া (১৯) ও রাহাত (১৯) নামে দুই গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর আগে ২০২৪ সালে গাবতলীর পীরগাছায় একটি পিকনিকের বাসে তল্লাশি চালিয়ে বার্মিজ চাকুসহ ৯ কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রাইয়ান আলম জানান, কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিউনিটি পুলিশের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কিশোর গ্যাং নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিংকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সম্পাদক কেজিএম ফারুক এই সংকট উত্তরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ভাণ্ডারকে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের তালিকা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হলে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের আগেই শনাক্ত করা সহজ হবে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।