Hi

০২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এনসিপি সমন্বয়কের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তি

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় কুমারখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে এনসিপির কুষ্টিয়া শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে এই মামলা করেন। ঘটনার চারদিন পর মামলাটি দায়ের করা হয়। আশা করি, ওই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন শেষে মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার পাশাপাশি লাঠি, বাঁশ, পাইপ, লোহার রড ও পাথর দিয়ে মারধর করে। এতে তার ব্যবহৃত গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার পর পুলিশ প্রহরায় তাদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার রাতে থানায় এজাহার দিতে গেলে হামলাকারীরা থানা ঘেরাও করে হুমকি দেয়, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব ঘটে। মাজার পরিদর্শন শেষে মূল ফটক দিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ প্রহরায় তিনিসহ এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মাজার প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপদে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা অনুকূলে না থাকায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

এনসিপি জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, হামলার পরপরই পুলিশের সহায়তায় তারা নিরাপদে বের হতে পারলেও তখন মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট আসামিদের নাম উল্লেখ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওসি তখন চাপের মুখে থাকায় বাধ্য হয়েই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, এই হামলার ঘটনার পর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের একটি মন্তব্য কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ায় এসে লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং তাকে উত্তম-মাধ্যম দিয়েছেন আমারই এক ছোট ভাই। ছাত্রদল নেতার এই স্বীকারোক্তির পর এনসিপির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। উত্তম-মাধ্যম কে দিয়েছে, আমি জোর গলায় বলতে পারি—আমারই এক ছোট ভাই ছিল।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মামলার এজাহার পরবর্তী তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পক্ষ।

জনপ্রিয়

রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

কুষ্টিয়ায় এনসিপি সমন্বয়কের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১২:২৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় কুমারখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে এনসিপির কুষ্টিয়া শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে এই মামলা করেন। ঘটনার চারদিন পর মামলাটি দায়ের করা হয়। আশা করি, ওই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন শেষে মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার পাশাপাশি লাঠি, বাঁশ, পাইপ, লোহার রড ও পাথর দিয়ে মারধর করে। এতে তার ব্যবহৃত গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার পর পুলিশ প্রহরায় তাদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার রাতে থানায় এজাহার দিতে গেলে হামলাকারীরা থানা ঘেরাও করে হুমকি দেয়, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব ঘটে। মাজার পরিদর্শন শেষে মূল ফটক দিয়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ প্রহরায় তিনিসহ এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মাজার প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপদে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা অনুকূলে না থাকায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

এনসিপি জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, হামলার পরপরই পুলিশের সহায়তায় তারা নিরাপদে বের হতে পারলেও তখন মামলার এজাহারে সুনির্দিষ্ট আসামিদের নাম উল্লেখ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওসি তখন চাপের মুখে থাকায় বাধ্য হয়েই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, এই হামলার ঘটনার পর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের একটি মন্তব্য কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ায় এসে লাঞ্ছিত হয়েছেন এবং তাকে উত্তম-মাধ্যম দিয়েছেন আমারই এক ছোট ভাই। ছাত্রদল নেতার এই স্বীকারোক্তির পর এনসিপির পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। উত্তম-মাধ্যম কে দিয়েছে, আমি জোর গলায় বলতে পারি—আমারই এক ছোট ভাই ছিল।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মামলার এজাহার পরবর্তী তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পক্ষ।