Hi

০৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:৩৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের জেরে ইসরাইলের সঙ্গে ব্রিটেনের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে ব্রিটেনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইল কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে জেরুজালেমে থাকা দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে লন্ডন। সমঝোতার অংশ হিসেবে কনসাল জেনারেলসহ মোট ২০ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক ইসরাইল ছাড়ছেন। তবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশদের কূটনৈতিক উপস্থিতি একেবারে মুছে যাচ্ছে না; সেখানে কনস্যুলেট ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের মালিকানাধীন হওয়ায় সাতজন কর্মীর তত্ত্বাবধানে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে নতুন একটি কাঠামোতে কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। ভবন থেকে ইতোমধ্যে কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড ও ফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কনসাল জেনারেলসহ ওই কনস্যুলেটে কর্মরত ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছেড়ে যাবেন। এমনকি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করছে। এ অবস্থায় পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর বৃটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর আরও কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমে বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বৃহস্পতিবার থেকে আর আগের কাঠামোয় কার্যক্রম চালাবে না।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরই কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সা’আর স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপের উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে ব্রিটেন চাইলে ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারত, তবে নতুন এই সমঝোতায় লন্ডনে দায়িত্ব পালনরত ইসরাইলি কূটনীতিকদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ইসরাইলি সেনারা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইল সরকারের রয়েছে বলে তারা মেনে নিতে রাজি নন। মিলিব্যান্ড পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড এবং এই অবস্থানের ওপর ব্রিটেন অটল থাকবে। তিনি কনস্যুলেট কর্মীদের সরিয়ে নেওয়াকে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি সাময়িক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মিলিব্যান্ড আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নাম নিয়ে নতুন এই দপ্তরটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখবে। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে গত ৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে ব্রিটেন যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তার প্রতি লন্ডন দৃঢ়ভাবে অটল রয়েছে। আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষই আর কোনো নতুন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক

আপডেট : ০২:৩৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের জেরে ইসরাইলের সঙ্গে ব্রিটেনের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে ব্রিটেনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইল কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে জেরুজালেমে থাকা দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে লন্ডন। সমঝোতার অংশ হিসেবে কনসাল জেনারেলসহ মোট ২০ জন ব্রিটিশ কূটনীতিক ইসরাইল ছাড়ছেন। তবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশদের কূটনৈতিক উপস্থিতি একেবারে মুছে যাচ্ছে না; সেখানে কনস্যুলেট ভবনটি ব্রিটিশ সরকারের মালিকানাধীন হওয়ায় সাতজন কর্মীর তত্ত্বাবধানে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে নতুন একটি কাঠামোতে কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে। ভবন থেকে ইতোমধ্যে কনস্যুলেটের সাইনবোর্ড ও ফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কনসাল জেনারেলসহ ওই কনস্যুলেটে কর্মরত ২০ জন কূটনীতিক ইসরাইল ছেড়ে যাবেন। এমনকি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করছে। এ অবস্থায় পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর ওপর বৃটেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর আরও কয়েকটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমে বৃটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বৃহস্পতিবার থেকে আর আগের কাঠামোয় কার্যক্রম চালাবে না।

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরই কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সা’আর স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে কোনো পদক্ষেপের উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে ব্রিটেন চাইলে ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারত, তবে নতুন এই সমঝোতায় লন্ডনে দায়িত্ব পালনরত ইসরাইলি কূটনীতিকদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে ইসরাইলি সেনারা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জেরুজালেমে প্রায় ২০০ বছর ধরে থাকা কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরাইল সরকারের রয়েছে বলে তারা মেনে নিতে রাজি নন। মিলিব্যান্ড পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত ভূখণ্ড এবং এই অবস্থানের ওপর ব্রিটেন অটল থাকবে। তিনি কনস্যুলেট কর্মীদের সরিয়ে নেওয়াকে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি সাময়িক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মিলিব্যান্ড আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নাম নিয়ে নতুন এই দপ্তরটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখবে। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে গত ৮ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সমন্বয় করে ব্রিটেন যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তার প্রতি লন্ডন দৃঢ়ভাবে অটল রয়েছে। আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষই আর কোনো নতুন পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।