ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই দেশের নদ-নদী ও সাগরে জাল ফেলতে শুরু করেন জেলেরা। এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বরিশাল বিভাগের প্রায় চার লাখ জেলে পরিবার ও কক্সবাজারের মৎস্যজীবীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু। পঞ্চম হলুদ কার্ড, তবুও নিষেধাজ্ঞা নেই: ‘গুড বিহেভিয়ার রুল’ রক্ষা করল মেসিকে। গত বছর ৮ দশমিক ৮ টন ইলিশ ও ১৩৮ দশমিক ৫৯ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছিল। এবার জব্দ করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ টন ইলিশ ও ১৩১ দশমিক ৬৪ লাখ মিটার জাল। ফলে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফল হলেও শতভাগ সফল করা সম্ভব হয়নি’, বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চলতি মাসের ৮ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তারপরও আমরা আশাবাদী, এবার হয়তো ভালো মাছ পাব। ইসরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা, সরকার গঠনে পরবর্তী ধাপগুলো কী।
শুক্রবার ভোর থেকেই চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সমাগম শুরু হয়। সকাল ১০টা পর্যন্ত এই ঘাটে প্রায় ১ হাজার টন ইলিশ এসেছে। তবে মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানিয়েছেন, আনা হওয়া ইলিশের ৭০ শতাংশই আকারে ছোট ও নরম। এই মাছের ৩০ শতাংশ পদ্মা-মেঘনার হলেও বাকি ৭০ শতাংশ নোয়াখালী ও ভোলার। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফের সরবরাহ না থাকায় মাছের মান কিছুটা নষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে মামলা, কারাদণ্ড এবং জব্দ করা ইলিশ ও জালের পরিমাণেও পরিবর্তন এসেছে।
বরিশালের বাজারগুলোতেও ইলিশের সরবরাহ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। যুদ্ধ-অবরোধ: দ্বিগুণের বেশি মুনাফা বেড়েছে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল-শেভরনের। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের গড়ে ৫০০ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত ব্যয়।
পোর্ট রোডের পাইকারি বিক্রেতা উজ্জ্বল রায় জানান, বাজারে মাছের জোগান বাড়ায় দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি খান মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, বর্তমানে ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করলেও এবার বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দৈনিক গড়ে ১৬১টি অভিযান চললেও এবার তা ১১৬টিতে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৫৩১টি অভিযানের বিপরীতে চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩০টি অভিযান হয়েছে। এছাড়া মামলা ও কারাদণ্ডের সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে। ‘ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন’—দীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ হতে পারছে না পিবিআই। বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার দৈনিক অভিযানের সংখ্যা প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ২০ দিনে অভিযান হয়েছে ২ হাজার ৩৩০টি। গত বছর ৮৯৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, এবার সেই সংখ্যা ৫০৭।
অভিযান পরিচালনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়া, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব এবং পুলিশ সদস্যের সংকটকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।
ঝালকাঠির মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, অভিযানের সময় জেলেদের আক্রমণাত্মক আচরণ ও হামলার কৌশল এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর হামলায় সাতজন আহত হন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অতর্কিত হামলায় সাতজন কর্মকর্তা ও অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তি আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তারা সেখান থেকে সরে আসেন।
বিভাগীয় পরিচালক কামরুল হাসান জানান, জেলেরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় ভোলা, ঝালকাঠি, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। বিভাগীয় মৎস্য কার্যালয়ের পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে জেলেরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।
খোদ পরিচালক নিজেও হামলার মুখে পড়েছেন এবং পেট্রল বোমার মতো বস্তু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, জেলেরা স্পিডবোট ঘিরে ফেলায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক সময় অভিযান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এদিকে, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির বিভাগীয় সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত দাবি করেছেন যে, প্রকৃত জেলেদের বাইরেও অনেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাছ ধরছে। তিনি জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা ১০০ কেজি চালে উন্নীত করার পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির বিভাগীয় সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে সব অংশীজনের মতামত নিয়ে অভিযান পরিকল্পনা করা উচিত। তার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত অনেকেই প্রকৃত জেলে নন।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের জেলেরা সাগরে ভালো মাছ পাওয়ার আশা করছেন। ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞার আগেও সাগরে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায়নি, তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতির আশা রয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল খুদা জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোস্ট গার্ড ও বিমানবাহিনীর সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়েছে। যদিও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, তবে সেগুলোকে বড় কোনো লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে না মৎস্য বিভাগ। এ কাজে বিমানবাহিনীর সহায়তায় আকাশপথেও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
রিপোর্টার নাম: 























