Hi

০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে এই উৎপাদন প্রক্রিয়াটি চালু হয়, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর আগে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে। এই পর্যায়টি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে বড় একটি কারিগরি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে। সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র কঠোর পারমাণবিক সুরক্ষাবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতিও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং প্রথম ইউনিটের পরবর্তী জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে এই বিশেষ জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে, যা পরে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রসাটমের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্।

প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি মেনে জ্বালানিভর্তি বিশেষ কনটেইনারগুলো সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। রিঅ্যাক্টরে স্থাপনের আগে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চাক্ষুষ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, রুশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন কাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রজন্ম-৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও সাধারণ ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।

নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে আগামীর সরকার গঠন হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

আপডেট : ০৮:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে এই উৎপাদন প্রক্রিয়াটি চালু হয়, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর আগে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে (এমসিপিএল) পৌঁছেছে। এই পর্যায়টি বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে বড় একটি কারিগরি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে। সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র কঠোর পারমাণবিক সুরক্ষাবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতিও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং প্রথম ইউনিটের পরবর্তী জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্ল্যান্টে এই বিশেষ জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে, যা পরে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে করে সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের বাংলাদেশে নিযুক্ত জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রসাটমের জ্বালানি বিভাগের আওতাধীন নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেট প্।

প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বিকিরণ নিরাপত্তাবিধি মেনে জ্বালানিভর্তি বিশেষ কনটেইনারগুলো সুরক্ষিত সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। রিঅ্যাক্টরে স্থাপনের আগে প্রতিটি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি চাক্ষুষ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি, রুশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন কাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং স্থানীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রজন্ম-৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও সাধারণ ঠিকাদারের দায়িত্ব পালন করছে রসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।