Hi

০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ৬০ লাখ মানুষ: ডা. জুবাইদা

অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং এই নীরব রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে রোগটির প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এই আহ্বান জানান। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে নিয়মিত অনুষ্ঠান, র‌্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস এমন একটি নীরব রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কেড়ে নেয়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে এবং বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় ৪০ শতাংশের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস এবং ৪৩.৫ শতাংশের মধ্যে অস্টিওপেনিয়া পাওয়া গেছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চলে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ৪১.৮ শতাংশ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতাল ভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীরা উন্নত বিশ্বের তুলনায় এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিসের সঠিক চিত্র পেতে আরও নিবিড় গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন। শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত জটিলতাগুলো প্রতিরোধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই রোগের ভয়াবহতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

রোগ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এর মধ্যে রয়েছে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা, যার মাধ্যমে ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো যাবে। এছাড়া তিনি নিয়মিত অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। জেলা হাসপাতালগুলোতে স্ক্রিনিং ক্যাম্প এবং ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলের সঠিক ব্যবহারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি। আয়োজনে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রদান করে ইনসেপ্টা।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম অংশ নেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালিত হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দেশে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ৬০ লাখ মানুষ: ডা. জুবাইদা

আপডেট : ০৫:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং এই নীরব রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে রোগটির প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এই আহ্বান জানান। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে নিয়মিত অনুষ্ঠান, র‌্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস এমন একটি নীরব রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কেড়ে নেয়। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে এবং বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় ৪০ শতাংশের মধ্যে অস্টিওপোরোসিস এবং ৪৩.৫ শতাংশের মধ্যে অস্টিওপেনিয়া পাওয়া গেছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া শহরাঞ্চলে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ৪১.৮ শতাংশ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতাল ভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীরা উন্নত বিশ্বের তুলনায় এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে অস্টিওপোরোসিসের সঠিক চিত্র পেতে আরও নিবিড় গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন। শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত জটিলতাগুলো প্রতিরোধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এই রোগের ভয়াবহতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

রোগ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। এর মধ্যে রয়েছে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা, যার মাধ্যমে ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো যাবে। এছাড়া তিনি নিয়মিত অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা এই রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। জেলা হাসপাতালগুলোতে স্ক্রিনিং ক্যাম্প এবং ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলের সঠিক ব্যবহারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি। আয়োজনে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা প্রদান করে ইনসেপ্টা।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম অংশ নেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালিত হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’।